২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার অভিযুক্ত উমর খালিদ সম্পর্কে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির মন্তব্যের পাল্টা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। ভারত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, অন্য দেশের গণতান্ত্রিক বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতাকে সম্মান করা উচিত। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা আশা করি, নির্বাচিত জন প্রতিনিধিরা অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন, আমরা এমনই আশা করি। ব্যক্তিগত পক্ষপাত প্রকাশ করা পদে থাকা ব্যক্তিদের জন্য শোভনীয় নয়।‘ বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, এই ধরণের হস্তক্ষেপ অনুপযুক্ত এবং অযৌক্তিক। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘এই ধরণের মন্তব্যের পরিবর্তে তাঁদের উপর অর্পিত দায়িত্বে মনোনিবেশ করা ভাল।’
১ জানুয়ারি নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর, জোহরান মামদানি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং কর্মী উমর খালিদকে চিঠি লিখেছিলেন। প্রসঙ্গত, উমর বর্তমানে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে দিল্লির তিহার জেলে বন্দী। মামদানির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সময়ই এই চিঠি জনসাধারণের নজরে আসে। তাঁর অভিষেকের মধ্যে দিয়ে মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেন। শুধু তাই নয়, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বৃহত্তম শহরের নেতৃত্বদানকারী সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন হিসেবেও পরিচিত হন।
তারিখবিহীন একটি চিঠিতে জোহরান মামদানি উমর খালিদের পরিবারের সঙ্গে একটি কথোপকথনের কথা উল্লেখ করেছেন এবং কারগারে বন্দী উমরের সঙ্গে ব্যক্তিগত সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও লেখেন, ‘তোমার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে আনন্দ পেলাম। আমরা সবাই তোমার কথা ভাবছি।’
মামদানি এর আগেA খালিদ সম্পর্কে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। ২০২৩-এর জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মার্কিন সফরের আগে ‘হাউডি ডেমোক্র্যাসি’ অনুষ্ঠানে তিনি খালিদের কারাগারের লেখা থেকে পাঠ করেছিলেন। দর্শকদের উদ্দেশ্যে মামদানি বলেন, ‘আমি উমর খালিদের একটি চিঠি পড়ব, যিনি দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পণ্ডিত এবং প্রাক্তন ছাত্র কর্মী, যিনি বিনা বিচারে, ঘৃণার বিরুদ্ধে একটি প্রচার চালাচ্ছিলেন। তিনি বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে ১ হাজার দিনেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন এবং এখনও বিচারের মুখোমুখি হননি।’
৩৮ বছর বয়সের খালিদকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আইপিসি এবং ইউএপিএ-র অধীনে একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আদালত বারবার তাঁর জামিন খারিজ করেছে। সম্প্রতি কঠোর শর্তে তাঁর বোনের বিয়েতে যোগ দেওয়ার জন্য সংক্ষিপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিল।
৫ জানুয়ারি এক রায়ে, সুপ্রিম কোর্ট ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা ষড়যন্ত্র মামলায় উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের দায়ের করা জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল যে, রেকর্ডে থাকা তথ্যে তাঁর অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার ইঙ্গিত রয়েছে। বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং এনভি আঞ্জারিয়ার যৌথ বেঞ্চ বলে যে,২ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে মামলা প্রমাণের জন্য রাষ্ট্রের তরফে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে।
একই সময়ে আদালত এই মামলায় অভিযুক্ত আরও ৫ জন ব্যক্তিকে জামিন দিয়েছে – গলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দার, শিফা উর রেহমান, মোহাম্মদ সেলিম খান এবং শাদাব আহমেদ। বেঞ্চ খালিদ ও ইমাম এবং বাকি অভিযুক্তদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরে উল্লেখ করে।
Advertisement