• facebook
  • twitter
Monday, 19 January, 2026

কর্পোরেট পুঁজির দাস মোদী

অতি মোটা দান আসে কর্পোরেট ও ব্যবসায়িক সংস্থার কাছ থেকে। অবশ্য কর্পোরেট-ব্যবসায়িক সংস্থাগুলি সরাসরি রাজনৈতিক দান এড়িয়ে চলে।

নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর অজ্ঞাত উৎস থেকে যথেচ্ছ পরিমাণ অর্থ দলীয় তহবিলে আইনি মোড়কে ঢোকাবার জন্য নির্বাচনী বন্ড চালু করেন। এই ব্যবস্থায় কে টাকা দিচ্ছে বা কোথা থেকে টাকা আসছে তা জানার সুযোগ থাকে না। সুপ্রিম কোর্ট এই নির্বাচনী বন্ডকে অসাংবিধানিক বলে বাতিল করে দেবার পর এখন রাজনৈতিক দলগুলির তহবিলে কর্পোরেট অর্থ আসে নির্বাচনী ট্রাস্টের মাধ্যমে। কর্পোরেট সংস্থা, ব্যবসায়িক সংস্থা এবং ধনী ব্যক্তিরা তাদের রাজনৈতিক চাঁদা বা দান এইসব ট্রাস্টে দেয়। ট্রাস্ট সেই টাকা দাতার ইচ্ছা মতো রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বণ্টন করে।

প্রসঙ্গত, এই দান সংগ্রহের প্রশ্নে অবশ্য দক্ষিণপন্থী দলগুলির সঙ্গে বামপন্থী দলগুলির আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। বামপন্থী দলগুলি কোনও ধরনের কর্পোরেট, ব্যবসায়িক বা বেশি অঙ্কের ব্যক্তিগত দান গ্রহণ করে না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলি তাদের কার্যকলাপ এবং নির্বাচনের জন্য যে অর্থ ব্যয় করে সেটা সংগৃহীত হয় মূলত জনগণের কাছ থেকে গণসংগ্রহ, ব্যক্তিগত দান এবং কর্পোরেট ও ব্যবসায়িক সংস্থার দান থেকে। সাধারণ মানুষ যে রাজনৈতিক দলের সমর্থক তারা সেই দলকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দান করেন সরাসরি। অপেক্ষাকৃত ধনীরা তাদের বড় পরিমাণ দান এক বা একাধিক দলকে দিয়ে থাকেন নিজেদের পরিচয় যথাসম্ভব গোপন করে। আর অতি মোটা দান আসে কর্পোরেট ও ব্যবসায়িক সংস্থার কাছ থেকে। অবশ্য কর্পোরেট-ব্যবসায়িক সংস্থাগুলি সরাসরি রাজনৈতিক দান এড়িয়ে চলে।

Advertisement

বামপন্থী দলগুলি সারা বছর গণসংগ্রহের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য। বামেদের অর্থের উৎস বছরের বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দান। গ্রামে-গঞ্জে, শহরে ও পাড়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এছাড়াও বাম দলগুলির সক্রিয় সদস্যরা নিজেদের আয় থেকে একটা ক্ষুদ্র অংশ প্রতি মাসে লেভি হিসাবে পার্টিকে দিয়ে থাকেন। দক্ষিণপন্থী দলগুলির গণসংগ্রহের কোনও বালাই নেই। তারা কর্পোরেট, ব্যবসায়িক ও ধনীদের কাছ থেকে বিশাল বিশাল অঙ্কের টাকা নিয়ে দলীয় তহবিল ভরিয়ে তোলে। কর্পোরেট, ব্যবসায়িক সংস্থা ও ধনী ব্যক্তিরা অবৈধ উপায়ে কামানো অর্থ রাজনৈতিক দলগুলিকে নানা স্বার্থে দিয়ে থাকে। কেউ সরকারি। কেউ সরকারি বরাত পেতে, কেউ জমি পেতে, ছাড়পত্র পেতে, ঋণ পেতে, সরকারি অনুদান ইত্যাদি পেতে, ঋণ মকুব করতে কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতাসীন দলকে মোটা টাকা দান বা ঘুষ দিয়ে থাকে। নিরপেক্ষতার মুখোশ পরতে এরা বিরোধী দলগুলিকেও নামমাত্র অর্থ দিয়ে থাকে।

Advertisement

কর্পোরেট দান আগেও পেত রাজনৈতিক দলগুলি। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর কর্পোরেট দানের বহর, একদিকে যেমন বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে, অন্যদিকে কর্পোরেট দানের ৮০ ভাগই চলে যাচ্ছে মোদীর দল বিজেপির তহবিলে। অর্থাৎ কর্পোরেট ভারত তথা শিল্প-বাণিজ্য মহল বুঝে গিয়েছে বিজেপিকে হাতে রাখলে এবং ক্ষমতায় রাখলে তাদের কর্পোরেট স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকবে। তাই ভারতীয় কর্পোরেট পুঁজি পুরোপুরিভাবে বিজেপিকে তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসাবে বেছে নিয়েছে। অর্থাৎ বিজেপির সরকার মানেই বৃহৎ একচেটিয়া পুঁজির নিজস্ব সরকার।

এই সরকারকে দিয়ে তারা তাদের পছন্দমতো আইন প্রণয়ন করতে পারছে। তাদের যাবতীয় আবদার আদায় করতে পারছে। তাদের শ্রম শোষণ, দ্বিগুণ মুনাফা, দেশের যাবতীয় সম্পদে একচেটিয়া অধিকার ও মালিকানা অর্জনে সরকারের সব রকমের সহযোগিতা তারা পেয়ে চলেছে। রাজনৈতিক দানের টাকা তাই তারা বিজেপিকেই দিয়ে থাকে এবং সেটা বহুগুণ পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। বিজেপিকে ক্ষমতায় টিঁকিয়ে রাখতে যত অর্থ প্রয়োজন, তা দিতে তারা দায়বদ্ধ। আবার আদানি, আম্বানিদের মতো শিল্পপতিদেরও তোয়াজ করে চলছে মোদী সরকার। এইভাবেই কর্পোরেট পুঁজি এখন বিজেপির মতো দলকে ক্ষমতায় রেখেই দেশ চালাচ্ছে. নেতৃত্বে কর্পোরেট-দাস নরেন্দ্র মোদী।

Advertisement