• facebook
  • twitter
Thursday, 1 January, 2026

বাবা রামকৃষ্ণ, মা সারদা, বিপাকে সন্ন্যাসী

রামকৃষ্ণ মঠের নিয়ম অনুযায়ী, সন্ন্যাস গ্রহণের পর একজন সন্ন্যাসী তাঁর জৈবিক বা জন্মদাতা পিতা-মাতার নাম ত্যাগ করেন

প্রতীকী চিত্র

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে শিলিগুড়িতে তৈরি হয়েছে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। এই প্রথম সন্ন্যাসীদের আধ্যাত্মিক পরিচয় ও সরকারি নথিতে থাকা পিতা-মাতার নামের অসঙ্গতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনাটি শিলিগুড়ি মহকুমা শাসকের দপ্তর পর্যন্ত গড়িয়েছে।

ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন প্রধান নগরের রামকৃষ্ণ বেদান্ত আশ্রমের এক সন্ন্যাসী। জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকায় নথির তথ্যে অসঙ্গতির কারণে তাঁকে শিলিগুড়ির এসডিও অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছে। সমস্যা তৈরি হয়েছে পিতা-মাতার নাম নিয়ে। রামকৃষ্ণ মঠের নিয়ম অনুযায়ী, সন্ন্যাস গ্রহণের পর একজন সন্ন্যাসী তাঁর জৈবিক বা জন্মদাতা পিতা-মাতার নাম ত্যাগ করেন। এরপর আধ্যাত্মিকভাবে পিতা হিসেবে ‘শ্রী রামকৃষ্ণ দেব’ এবং মাতা হিসেবে ‘মা সারদা’-র নাম ব্যবহার করা হয়। এই ধর্মীয় প্রথার সঙ্গেই প্রশাসনিক নিয়মের সংঘাত তৈরি হয়েছে।

Advertisement

এই বিষয়ে আশ্রমের রাঘবানন্দ মহারাজ বলেন, ‘সন্ন্যাস নেওয়ার পর তাঁদের পক্ষে জন্মদাতা পিতা-মাতার নাম ব্যবহার করা সম্ভব নয়। আধ্যাত্মিক নিয়ম মেনেই তাঁরা নতুন পরিচয় গ্রহণ করেন’। তিনি আরও জানান, ‘ভারত সরকারের দেওয়া পাসপোর্টেও তাঁর পিতা-মাতার নাম হিসেবে শ্রী রামকৃষ্ণ ও মা সারদার নামই রয়েছে। তাই প্রশ্ন উঠছে, যখন পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিতে এই পরিচয় স্বীকৃত, তখন এসআইআর প্রক্রিয়ায় কেন তা নিয়ে আপত্তি তোলা হচ্ছে’?

Advertisement

এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিজেপি আইটি সেলের ইনচার্জ দীপঙ্কর কুণ্ডু বলেন, ‘বিষয়টি পুরোপুরি প্রশাসনিক। তাঁর মতে, ‘এসআইআর প্রক্রিয়ায় সবাইকে একই নিয়ম মানতে হয়। নথিতে অসঙ্গতি থাকলে যে-কাউকেই যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হবে’।

Advertisement