• facebook
  • twitter
Monday, 12 January, 2026

চাকরি পেয়েও সন্তোষ ট্রফি খেলায় অনীহা

বাংলা দল সন্তোষ ট্রফিতে গত মরশুমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গত ১ বছরে সেই দলের কোনো ফুটবলার সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে নিজেদের খেলার সুযোগ করে নিতে পারলেন না।

রনজিৎ দাস

রাজ্য সরকার গত মরশুমের সন্তোষ ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলা দলের ফুটবলারদের ‘সরকারি চাকরি’ দিয়েছে। চাকরি পাওয়া অধিকাংশ ফুটবলারদের এবারের সন্তোষ ট্রফিতে খেলার আগ্রহ নেই। বর্তমানে ট্রায়ালে টিঁকে থাকা ৩৪জন ফুটবলারের মধ্যে মাত্র ৬জন ফুটবলার গত মরশুমে চ্যাম্পিয়ন বাংলা দলের হয়ে খেলেছেন। রাজ্য সরকারের চাকরি পাওয়া ফুটবলাররা সন্তোষ ট্রফিতে খেলার ইচ্ছে হারিয়ে ফেললেন কেন? বাংলার সন্তোষ ট্রফির কোচ সঞ্জয় সেন ও আইএফএ কি তবে চাকরি পাওয়া অনুপস্থিত ফুটবলারদের বাংলা দলে নিতে আগ্রহী নয়? কিংবা এবার সন্তোষ ট্রফির ট্রায়ালে যেসব ফুটবলাররা এসেছেন, তাঁরা যোগ্যতায় গতবারের অধিকাংশ ফুটবলারদের তুলনায় বেশি ভালো? তাহলে, এই বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন ফুটবলাররা গত মরশুমে বাংলা দলের হয়ে খেলার জন্য ডাক পাননি কেন? কিংবা ডাক পেয়েও অনেকে আসেননি?

Advertisement

সরকারি চাকরি পাওয়ার সুযোগ আছে বলে কি এবার বাংলা দলের হয়ে খেলায় মন এসেছে। অথবা, নিম্নমানের সন্তোষ ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ান হওয়ার সুবাদে সরকারি চাকরি পাওয়া গেল? সন্তোষ ট্রফির চূড়ান্ত দল ঘোষণার পর, এসব একাধিক প্রশ্ন উঠে আসতে বাধ্য। আইএসএল ও আইলিগের ফুটবলারদের সন্তোষ ট্রফিতে খেলার সুযোগ নেই। ফলে তিন প্রধানের মূল দলের ফুটবলাররা সন্তোষ ট্রফিতে খেলেন না। এই সুযোগে লিগের ছোট দলের ফুটবলাররা বাংলা দলে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। সন্তোষ ট্রফিতে ভালো ফল করলেই সরকারি চাকরি পাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের আইএসএল ও আইলিগের দলগুলোর নজরে পড়ার সুযোগ থাকে। চাকরি পেয়েও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে বড় দলে সুযোগ করে নেওয়ার ইচ্ছে গত মরশুমের চ্যাম্পিয়ন বাংলা দলের ফুটবলারদের নেই কেন? বাংলা দলের হয়ে সন্তোষ ট্রফিতে না খেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্যতায় অনেকে সরকারি চাকরি পেয়েছেন। এমন সরকারি চাকরি পাওয়া ফুটবলার, যারা কলকাতা লিগে নিজ দলের হয়ে নিয়মিত খেলেছেন— তাঁরাও যোগ্যতা থাকা সত্বেও বাংলার সন্তোষ ট্রফির ট্রায়ালে যোগ দেননি। অর্থাৎ সন্তোষ ট্রফি খেলে আইএসএল ও আইলিগের ক্লাবে নজরে পড়ার ইচ্ছে, এখন চাকুরিরত বাঙালি ফুটবলারদের মনে নেই। একটা চাকরি ও খেপের মাঠের নগদ মোটা টাকাই এখন বাঙালি ফুটবলারদের প্রধান লক্ষ্য? যাদের বাংলার তিন প্রধান ও ভারতীয় দলের খেলার স্বপ্ন নেই। একবারের বেশি বাংলা দলে খেলতে চায় না, তাদের রাজ্য সরকার চাকরি দেয় কেন— এই প্রশ্ন আগামীদিনে উঠবে। কলকাতার তিন প্রধানের ফুটবলাররা আগে চাকরি করা সত্বেও একাধিকবার বাংলা দলের হয়ে খেলেছেন। সেই মানসিকতা এখনকার ফুটবলাররা দেখাতে পারছেন না কেন?

Advertisement

বাংলা দল সন্তোষ ট্রফিতে গত মরশুমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। গত ১ বছরে সেই দলের কোনো ফুটবলার সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে নিজেদের খেলার সুযোগ করে নিতে পারলেন না। এখানেই সন্তোষ ট্রফির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। ভারতীয় দলে বাঙালি ফুটবলার নেই বলে আফসোস শোনা যায়। ডুরান্ড কাপ থেকে সুপার কাপ— সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় বাংলার একাধিক ক্লাব খেলেছে। কিন্তু বাঙালি ফুটবলারদের এইসব দলে দূরবীন দিয়ে দেখতে হচ্ছে। সন্তোষ ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ান হয়েও বড় দলের মূল দলে খেলার সুযোগ মেলে না। বাংলার সন্তোষ ট্রফির চ্যাম্পিয়ান দলের অধিনায়ক তার মেইন দলের জার্সি পায় না— এর চাইতে লজ্জার কি হতে পারে? এই লজ্জা কেবল ফুটবলারদের নয়— সন্তোষ ট্রফির গুরুত্বের বিচারে নিজেদের জাহির করার সামগ্রিক লজ্জা। এই লজ্জা বয়ে বেড়ানোর দায় এড়াতে— চাকরি পেয়েও সন্তোষ ট্রফিতে খেলায় সহজে অনীহা দেখা যাচ্ছে।

Advertisement