অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারত প্রথম একদিনের ম্যাচে পার্থের মাঠে সাত উইকেটে হেরে গিয়ে পিছিয়ে পড়েছে। আবার দীর্ঘদিন বাদে ভারতের জার্সি গায়ে খেলতে নামেন তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা। সবাই আশা করেছিলেন বিরাট ও রোহিতের ব্যাট থেকে বড় রান দেখতে পারবেন। কিন্তু ওই তারকা যুগল একেবারে হতাশ করলেন। দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচ খেলতে হবে ভারতকে এডিলেডের মাঠে। এই হারের পরে স্বাভাবিকভাবে ভারতীয় দল সেই অর্থে বেশ কোণঠাসা। তাই ভারতীয় দল দাঁড়াতে পারবে কিনা, তা নিয়ে এখন থেকেই গুঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছে। তারপরে দল গঠন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেন প্রথম ম্যাচে কুলদীপ যাদবকে প্রথম একাদশে রাখা হয়নি? তাহলে কি দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে বোলার চায়নাম্যান কুলদীপ যাদব জায়গা পাচ্ছেন ভারতীয় দলের প্রথম একাদশে! ইতিমধ্যে কোচ গৌতম গম্ভীর দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচ জেতার জন্য নতুন ছক তৈরি করছেন। এমনও হতে পারে তারকা দুই ক্রিকেটারকে ছাড়াই ভারতীয় দল মাঠে নামতে পারে।
আগামী ২৩ অক্টোবর দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচ এডিলেডে খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত। তাই এখন থেকে ভাবনা শুরু হয়ে গিয়েছে বোলার কুলদীপ যাদবকে নিয়ে। তার প্রধান কারণ হল প্রথম ম্যাচে পার্থের উইকেটে মহম্মদ সিরাজ, আর্শদীপ সিং, হর্ষিত রানা, অক্ষর প্যাটেল এবং ওয়াশিংটন সুন্দররা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের সেইভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারেননি। যার ফলে কোচ গৌতম বোলারদের প্রতি সেইভাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। যদি কুলদীপ যাদব দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে প্রথম একাদশে থাকেন, তাহলে বাদের তালিকায় চলে যেতে পারেন ওয়াশিংটন সুন্দর বা হর্ষিত রানা। দু’জনেই ব্যাট হাতে বড় রান করতে পারেননি। আবার বাদের তালিকায় নীতীশ কুমার রেড্ডিকে দেখলে অবাক হওয়ার কোনও কারণ নেই। এদিকে হর্ষিত রানা কেন জায়গা পাচ্ছেন, তা নিয়ে কম সমালোচনা হচ্ছে না। অনেকের মতামত তিনি নাকি কোচ গৌতমের অত্যন্ত কাছের। সেই কারণে স্নেহভাজন কোটায় হর্ষিত ব্যর্থ হলেও, ভারতীয় দলে জায়গা পেয়ে যান। শেষ পর্যন্ত সমালোচনার তিরে বিদ্ধ হয়ে হর্ষিত বাদ চলে যান, তবে সেই জায়গা ভরাট করার সম্ভাবনা থাকবে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার। ২৯ বছর বয়সী দ্রুতগামী বোলার প্রসিদ্ধ ইতিমধ্যে ১৭টি একদিনের ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে। পেয়েছেন ১৯টি উইকেট। এমনকি এই বোলার গত বছর আইপিএল ক্রিকেটে কর্নাটকের হয়ে খেলে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হিসেবে সম্মানিত হন ইংল্যান্ড সিরিজের ওভাল টেস্টে ভারতীয় দল ৬ রানে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার কৃতিত্বে।
Advertisement
পার্থে প্রথম একদিনের ক্রিকেটে ম্যাচে হারের পর অধিনায়ক শুভমন গিল আঙুল তুললেন দুই তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার দিকে। অধিনায়ক বলেন, যখন পাওয়ার প্লে-তে তিনটি উইকেট হারাতে হয়, তখন জয়ের ভাবনা থেকে সরে এসে ম্যাচে ফিরে আসার দিকে গুরুত্ব দিতে হয়। যেহেতু বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে ওই সময়ের মধ্যে প্যাভিলিয়নে যেতে হয়, তখন সতর্ক থাকতে হয় পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য। তবে স্টেডিয়ামে হাজির থাকা ক্রিকেট ভক্তরা ভারতীয় দলকে দারুণভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। তাই প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দুই তারকা ক্রিকেটারকে আরও সচেতন হওয়া উচিত ছিল। স্বাভাবিকভাবে তাঁদের কাছ থেকে প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। তারপরে রোহিত শর্মাকে কেন অধিনায়ক করা হয়নি, তা নিয়ে কম বিতর্ক তৈরি হয়নি।
Advertisement
সেই কারণে রোহিতকে আরও আগ্রাসী ভূমিকা নিয়ে খেলা। স্কোরবোর্ডকে ভদ্রস্থ জায়গায় নিয়ে যাওয়া। ভারতীয় দলের হয়ে ওপেন করতে এসে আরও শক্ত হাতে ব্যাট করার প্রবণতাকে প্রকাশ করা উচিত ছিল। কিন্তু সেই ভাবনায় তিনি ব্যর্থ। রোহিত মাত্র ৮ রান দিয়ে আউট হয়ে যান। তারপরে বিরাট কোহলি খেলতে এসে পুরোপুরি হতাশার ছবি উইকেটে এঁকে দিয়ে শূন্য রানে মাথা নীচু করে মাঠ ছাড়লেন। যখন তারকা ক্রিকেটাররা খুব তাড়াতাড়ি আউট হয়ে যান, তখন দলের মধ্যে একটা প্রভাব পড়ে। তরুণ ক্রিকেটাররা একটু চাপে পড়ে যান। সত্যি তাই হল। হয়তো দুই তারকা ক্রিকেটারের ব্যর্থতা নির্বাচকদের কাছে অন্য কথা বলতে শুরু করেছে। ব্যর্থতায় আবার যদি নাম লেখান এই দুই ক্রিকেটার, তা হলে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে যাওয়াটা কোনও অস্বাভাবিক নয়।
এদিকে প্রথম একদিনের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যাওয়ায় রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা বড় আকার নিয়েছে। এই দুই ব্যাটসম্যান প্রতিপক্ষ দলের বোলারদের কোনওভাবে মোকাবিলা করতে পারেননি। তাই বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে বড় মাপের ক্রিকেটার বলে অভিভূত করে সুনীল গাভাসকার বলেছেন, দীর্ঘদিন বাদে আবার একদিনের ক্রিকেটে ফিরে আসাতে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। ব্যাটিং দক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। সেই কারণে প্রথম ম্যাচে নিজেদের সরগর করে নিতে পারেননি। অনুশীলনে আরও সময় দিতে হবে। তাহলে আবার ছলে দিয়ে আসা সম্ভব হবে। এবং তাঁদের ব্যাট থেকে বড় রান আসতে বলে বিশ্বাস। ছন্দে ফিরে আসলেই ভারতীয় স্কোরবোর্ডে ৩০০ থেকে ৩৫০ রান দেখতে পাওয়া যাবে।
Advertisement



