• facebook
  • twitter
Wednesday, 4 February, 2026

ভোটার তালিকা : আগস্টেই নিবিড় সমীক্ষা কমিশনের

বেশ কিছু রাজ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের শেষ এসআইআর-এর সময়ে প্রকাশিত ভোটার তালিকা প্রকাশ্যে আনা শুরু হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র

ভোটার তালিকা নিয়ে বিহারে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মাঝেই বড় পদক্ষেপ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই ভোটার তালিকা নিয়ে দেশব্যাপী সমীক্ষা শুরু করে দিতে চাইছে কমিশন।

ভোটার তালিকা নিয়ে বিহারে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা শুরুর বিতর্কের মাঝেই নির্বাচন কমিশন আভাস দিয়েছিল, বিহারের মতো বাকি রাজ্যগুলিতেও এই সমীক্ষা শুরু করা হবে। তবে কমিশন এ বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি। ফলে কবে থেকে দেশব্যাপী সমীক্ষা শুরু হতে চলেছে, সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। যদিও একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, আগামী আগস্ট মাসেই দেশব্যাপী এই সমীক্ষা শুরু করে দিতে চাইছে কমিশন। সেই মতো কমিশনের কর্মীদের বিভিন্ন রাজ্যে সক্রিয় করা হচ্ছে।

Advertisement

প্রসঙ্গত ভোটার তালিকা নিয়ে বিহারে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা শুরু হতেই বিতর্ক দানা বাঁধে দেশজুড়ে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। গত ১০ জুলাই এই মামলাগুলি একসঙ্গে প্রথম শুনানি হয়। আগামী ২৮ জুলাই শীর্ষ আদালতে এই মামলাগুলির সম্মিলিতভাবে শুনানি রয়েছে। ওই দিনই দেশব্যাপী ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমীক্ষা শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

Advertisement

যদিও কমিশনের কাজে সুপ্রিম কোর্ট এখনও কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, যদি ১ অগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়, তবে ২৮ জুলাইয়ের আগে শুনানির জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং রেশন কার্ড ভোটাধিকার প্রমাণের প্রয়োজনীয় নথি কি না, নির্বাচন কমিশনকে তা বিবেচনা করে দেখতে হবে।

বিহার বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৫-এর শেষের দিকে। এ ছাড়া ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু এবং কেরলেও বিধানসভা ভোট রয়েছে। সামনে এতগুলি নির্বাচনের মুখে কমিশনের বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার উদ্যোগকে যথেষ্ট রহস্যজনক বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এদিকে বিহারেই আগামী ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ সেরে ফেলতে চায় কমিশন। সেই লক্ষ্যে নির্দিষ্ট ফর্ম বিলি করা হয়েছে বিহারের ভোটারদের মধ্যে। তা পূরণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নথি-সহ জমা দিতে হবে। কিন্তু কমিশনের চাওয়া এই নথির তালিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

জানা গিয়েছে, বিহারে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষায় কমিশনের তরফে নথি হিসাবে চাওয়া হয়েছে নিজের এবং বাবা-মায়ের জন্মের শংসাপত্র। আধার কার্ড বা রেশন কার্ডের মতো নথি এ ক্ষেত্রে বিবেচিত হবে না। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। অভিযোগ করা হয়েছে, এর ফলে তিন কোটি মানুষ ভোটাধিকার হারাতে পারেন। যাঁরা এত দিন ধরে ভোট দিয়ে আসছেন, কেন আবার তাঁদের নথি দিয়ে ভোটাধিকার প্রমাণ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ২০০৩-এর ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ছিল, তাঁদের সমস্যা নেই। কিন্তু বাকিদের মধ্যে যাঁদের জন্ম ১৯৮৭ সালের আগে, তাঁদের জন্মের প্রমাণপত্র দিতে হবে। তাঁদের ক্ষেত্রে গ্রাহ্য মোট ১১টি নথির কথা জানিয়েছে কমিশন। তাঁরা গত লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকলেও এই নথি দিতে হবে। এ ছাড়া, ১৯৮৭ থেকে ২০০৪-এর মধ্যে যাঁরা জন্মেছেন, তাঁদের নিজেদের এবং বাবা-মায়ের মধ্যে যে কোনও এক জনের জন্মের প্রমাণপত্র দিতে হবে। আবার ২০০৪-এর পরে জন্ম হলে নিজের ও বাবা-মায়ের দু’জনেরই জন্মের প্রমাণপত্র দিতে হবে।

যদিও নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র-সহ অনেকে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা এবং সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবও মামলা করেছেন। বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনীর কাজে গত শুনানিতে শীর্ষ আদালত কমিশনকে কোনও স্থগিতাদেশের নির্দেশ দেয়নি। এরই মধ্যে রাজ্যগুলিতেও এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করতে উদ্যোগী হল কমিশন।

ইতিমধ্যে বেশ কিছু রাজ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের শেষ এসআইআর-এর সময়ে প্রকাশিত ভোটার তালিকা প্রকাশ্যে আনা শুরু হয়েছে। দিল্লিতে শেষ এসআইআর হয়েছিল ২০০৮ সালে। সেই বছরের ভোটার তালিকা দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ্যে এসেছে। উত্তরাখণ্ডে ২০০৬ সালে শেষ এসআইআর হয়েছিল। ওই বছরের ভোটার তালিকা এখন সে রাজ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও সব রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর করার বিষয়ে কমিশন এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। আগামী ২৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে শুনানির দিনই কমিশন দেশব্যাপী এসআইআর-এর বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে সূত্রের খবর।

Advertisement