পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি। ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর টানা ছয় দিন ধরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চালানো ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি-সহ একাধিক শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিহত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে।
এই হামলার পরপরই তেহরানের তরফে পালটা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত আমেরিকার একাধিক সামরিক ঘাঁটি এবং পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে ইজরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর উপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে খবর। ফলে পুরো অঞ্চল জুড়ে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Advertisement
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে এক আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলতে থাকা সামরিক অভিযানে আমেরিকা ‘খুব ভালো অবস্থানে’ রয়েছে। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত ওই আলোচনাসভায় ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধের ক্ষেত্রে আমরা খুব ভালো করছি। কেউ যদি দশের মধ্যে নম্বর দিতে বলে, আমি বলব পনেরো।’ তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলতে থাকা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানে আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপে তেহরানের সামরিক শক্তি যথেষ্ট দুর্বল হয়ে পড়েছে।
Advertisement
ট্রাম্পের বক্তব্য, ‘আমরা এই লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে আছি এবং সামনের দিনেও ভালো ফলই পাব। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী আমাদের, এবং বহু বছর ধরে ইরান আমাদের জন্য বড় হুমকি হয়ে ছিল।’ একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকান নাগরিকদের উপর হামলার অভিযোগও তোলেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, ‘গত সাতচল্লিশ বছর ধরে তারা আমাদের মানুষকে হত্যা করেছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বহু মানুষকে ক্ষতি করেছে। তবু আমাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন রয়েছে।’
এদিকে সংঘাতের পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এখনও পালটা হামলা ও সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাধিক নেতা ইতিমধ্যেই দুই পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই সংঘাত যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে পুরো অঞ্চল জুড়ে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
Advertisement



