• facebook
  • twitter
Friday, 9 January, 2026

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট অপহরণে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়, চিনের হুঁশিয়ারি

শান্তির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বার্তা ভারতের

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

একটি সার্বভৌম দেশে ঢুকে সে দেশের প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুধু সে দেশের প্রেসিডেন্ট নয়, ফার্স্টলেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকেও অপহরণ করে মার্কিন সেনা। এই ঘটনা ঘিরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় পড়ে গেছে। এই ঘটনার পরপর দু’টি বিবৃতি দিয়েছে চিন। ভারতের তরফেও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।   শনিবার প্রথম বিবৃতি দেয় চিন। তার পর রবিবার সকালে আরেকটি বিবৃতি জারি করে চিন। অবিলম্বে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মুক্তির দাবি জানিয়েছে বেজিং। ভেনেজুয়েলার সরকারের যাতে পতন না-ঘটে সে বিষয়ে নিশ্চিত করতে বলেছে শি জিনপিং-এর সরকার।

জোর করে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে দেশ থেকে বার করে নিয়ে গিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ভেঙেছে আমেরিকা। রবিবার বিবৃতি জারি করেছে চিন সরকার। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সাধারণ নিয়ম, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদের উদ্দেশ্য এবং নীতির সঙ্গে এটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে আমেরিকাকে। অবিলম্বে তাঁদের মুক্তি দিতে হবে। ভেনেজুয়েলার সরকার ভেঙে দেওয়া চলবে না। আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যাগুলির সমাধান করতে হবে।’

Advertisement

শনিবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার আক্রমণ এবং মাদুরোর অপহরণের কথা ঘোষণা করেন।মাদুরোর অপহরণের খবরে শনিবার রাতে প্রথম বার মুখ খুলেছিল চিন। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আমেরিকার এমন শক্তিপ্রয়োগ এবং দেশের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছিল চিন। মার্কিন পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছিলেন, ‘আমেরিকার এমন আধিপত্যবাদ আন্তর্জাতিক আইন, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান প্রদেশের নিরাপত্তা লঙ্ঘনকারী। চিন কঠোর ভাবে এর বিরোধিতা করছে। আমেরিকা আমেরিকার কাছে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ মেনে চলার দাবি জানাচ্ছি। অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা লঙ্ঘন করা বন্ধ কর।’

Advertisement

অন্যদিকে ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট-হরণের ঘটনা নিয়ে প্রথমবার বিবৃতি জারি করেছে ভারত। এর আগে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা জারি করলেও মূল ঘটনা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি দিল্লি। রবিবার দুপুরে বিদেশ মন্ত্রক একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে ভারত ‘গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন’। পরিস্থিতির উপর ভারত নজর রাখছে বলেও জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যা সমাধানের কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘ভেনেজুয়েলার বাসিন্দাদের সুরক্ষা এবং ভারতের সমর্থন অটুট রয়েছে। আমরা সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি। গোটা অঞ্চলে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আর্জি জানাচ্ছি।‘

শনিবার রাতেই ভেনেজুয়েলায় বসবাসরত ভারতীয়দের জন্য বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সমাজমাধ্যমে একটি সতর্কবার্তা পোস্ট করেছিলেন। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ভারতীয়দের ওই দেশ এড়িয়ে যেতে বলা হয়। ভেনেজুয়েলায় বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করারও বার্তা দেওয়া হয়। সে দেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য নির্দিষ্ট মেল আইডি ও ফোন নম্বরও দেওয়া হয়।

শুধু বিশ্বে নয়, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট উৎখাতের ঘটনায় খোদ নিজের দেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।শিকাগো, ওয়াশিংটনের রাস্তায় জড়ো হচ্ছেন হাজার হাজার আমেরিকান। প্রতিবাদের স্বর তীব্র হচ্ছে। তবে আবার কোথাও কোথাও উচ্ছ্বাসও দেখা গিয়েছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করছেন ডেমোক্র্যাটরা। তাঁদের নেত্রী কমলা হ্যারিস ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘বেআইনি’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

আমেরিকার প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ‘ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ কখনওই আমেরিকাকে সুরক্ষিত বা শক্তিশালী করবে না।’ শুধু একা হ্যারিস নন, ট্রাম্পের নিন্দা করেছেন  নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিও। ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ট্রাম্প  যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন বলে দাবি জোহরানের। এ ভাবে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা শুধু বিদেশে বসবাসকারীদের উপরেই নয়, বরং নিউ ইয়র্কের বাসিন্দাদের উপরেও প্রভাব ফেলবে বলে মত তাঁর। তাঁর প্রশাসন নিউ ইয়র্কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং নিরাপত্তায় জোর দেবে বলে জানিয়েছেন মামদানি।

নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পিছনে মাদক সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। এছাড়া ভেনেজুয়েলা থেকে অপরাধীরা অবৈধ ভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করে। তাই জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য মাদুরোকে সরানো প্রয়োজন বলে দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের। তবে কূটনৈতিক মহলে দাবি অন্য। ভেনেজুয়েলা বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অপরিশোধিত তৈলভাণ্ডার। এই দেশের সংরক্ষণে রয়েছে ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল তেল। সেই তৈলভাণ্ডারে দিকে নজর রয়েছে ট্রাম্পের। সেই বিষয়টিকে তুলে ধরেছেন আমেরিকায় রাস্তায় নামা প্রতিবাদীরা।

শিকাগো এবং ওয়াশিংটন ডিসির রাস্তায় মার্কিন সেনার অভিযানের বিরুদ্ধে যাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সে দেশের নাগরিকরা। প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘তেলের জন্য রক্ত চাই না’। কেউ কেউ আবার বলছেন, ‘ভেনেজ়ুয়েলায় আমেরিকার যুদ্ধ চাই না’। আমেরিকায় বিক্ষোভকারীদের একটাই কথা ‘দক্ষিণ আমেরিকার উপর থেকে হাত তুলে নাও।’ ট্রাম্পের এই অভিযানকে সমর্থন করছেন না সে দেশের সাধারণ মানুষ। কোনও ভোটাভুটি হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। ক্ষুব্ধ সে দেশের নাগরিকরা। তবে বিক্ষোভের মাঝে হামলার উদযাপনও দেখা গেছে সেখানে। তবে ভেনেজুয়েলায় সামরিক শক্তি প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে বিক্ষোভের আঁচ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে বিক্ষোভকারীদের একাংশ।

 

 

Advertisement