ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা, রুপো এবং অপরিশোধিত তেলের দামে বড় কোনও প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করছেন মার্কেটিং বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, পরিস্থিতি নজরে রাখার মতো হলেও এই মুহূর্তে তা বিশ্ববাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরির মতো পর্যায়ে পৌঁছয়নি।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, ভেনেজুয়েলা তেল উৎপাদনকারী দেশ হলেও বর্তমানে তাদের উৎপাদন এবং রপ্তানির পরিমাণ আগের তুলনায় অনেকটাই কম। ফলে ওই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপড়েন বিশ্ববাজারে তেলের জোগানে বড় ধাক্কা খাবে না। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে না আন্তর্জাতিক তেলের দামে।
Advertisement
সোনা ও রুপোর বাজার নিয়েও একই মত বিশ্লেষকদের। তাঁদের মতে, বিশ্ববাজারে সোনা ও রুপোর দাম মূলত নির্ভর করছে মার্কিন মুদ্রানীতি, সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রাস্ফীতির গতিপ্রকৃতির উপর। শুধু ভেনেজুয়েলার এই রাজনৈতিক সঙ্কট– এই ধাতুগুলির দামে বড় উত্থান বা পতন ঘটানোর মতো শক্তিশালী নয়।
Advertisement
একজন মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই দেশটি সঙ্কটে রয়েছে। এই সঙ্কট যদি হঠাৎ করে বড় আকারের আন্তর্জাতিক সংঘাতের রূপ না নেয়, তা হলে সোনা, রুপো বা তেলের দামে বড় উত্থান-পতনের সম্ভাবনা কম।’
তবে স্বল্পমেয়াদে বাজারে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের। রাজনৈতিক উত্তেজনার খবরে বিনিয়োগকারীদের একাংশ সতর্ক হয়ে ওঠেন। তার জেরে সামান্য ওঠানামা দেখা যেতে পারে। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই তাঁদের ধারণা। ভারতের বাজার প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক স্তরে বড় কোনও অস্থিরতা না হলে দেশের সোনা ও রুপোর দামও মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে।
সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলার সঙ্কট নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলেই মত বাজার বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের মতে, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আবেগ নয়, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিস্থিতিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
Advertisement



