• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 17 June, 2026

১৩৬ কেজি কোকেন-সহ আমেরিকায় গ্রেপ্তার দুই ভারতীয় ট্রাকচালক

তিনি অভিযোগ করেছেন যে মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলি আমেরিকায় মাদক পাচারের প্রধান উৎস।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

আমেরিকায় মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্যের দাবি করল ট্রাম্প প্রশাসন। ইন্ডিয়ানার পুটনাম কাউন্টি থেকে ১৩৬ কেজি কোকেন-সহ গ্রেফতার করা হয়েছে দুই ভারতীয় ট্রাকচালককে। ধৃতদের নাম গুরপ্রীত সিংহ ও জসবীর সিংহ। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ কোকেন বাজারে ছড়ালে এক লক্ষেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারত।ডিএইচএস সূত্রে খবর, গত ৪ জানুয়ারি একটি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় ট্রাকের ভেতর বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ১৩৬ কেজি কোকেন উদ্ধার হয়। তদন্তকারীদের মতে, এই মাদক পাচার একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক চক্রের অংশ হতে পারে। ধৃতদের কাছ থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার ড্রাইভিং লাইসেন্সও উদ্ধার করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, গুরপ্রীত সিংহ ২০২৩ সালের ১১ মার্চ অবৈধভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করেছিলেন। সেই সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হলেও পরে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে মুক্তি পান। ডিএইচএস জানিয়েছে, গুরপ্রীত নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি বেআইনিভাবে আমেরিকায় ঢুকেছিলেন।

অন্যদিকে, জসবীর সিংহ ২০১৭ সালে আমেরিকায় অনুপ্রবেশ করেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনিও মুক্তি পান।

এখন ধৃত দু’জনকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, এই বিপুল পরিমাণ কোকেন কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং এর চূড়ান্ত গন্তব্যই বা কোথায় ছিল। পুলিশ মনে করছে, মেক্সিকো ও লাতিন আমেরিকার মাদকচক্রের সঙ্গে এই পাচারের যোগ থাকতে পারে।উল্লেখ্য, ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদকসন্ত্রাস নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন।

বারবার তিনি অভিযোগ করেছেন যে মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলি আমেরিকায় মাদক পাচারের প্রধান উৎস। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার পর ভারতীয় মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। পাঞ্জাব ও উত্তর ভারতের বহু যুবক জীবিকার আশায় বিদেশে গিয়ে নানা বিপদের মুখে পড়ছেন— কখনও মানব পাচার, কখনও আবার মাদকচক্রের ফাঁদে জড়িয়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসে কর্মরত ভারতীয়দের জন্য কড়া নজরদারি ও সচেতনতা এখন সময়ের দাবি।