তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শতাধিক বাড়ি ধসে পড়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩২ জন। তাঁদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে প্রাথমিক সরকারি মূল্যায়নে জানানো হয়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যার মুখে পড়েছেন উদ্ধারকারীরা।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে উত্তর তিব্বতের নাগকু অঞ্চলের বাকেন কাউন্টিতে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। চিনা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ৩৩৯টি বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রকৃত পরিমাণ জানতে এখনও সমীক্ষা চালানো হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর বিপর্যয় মোকাবিলায় ১ হাজার ৬০০-রও বেশি স্থানীয় কর্মীকে মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অস্থায়ী তাঁবু, বিছানা ও শীতের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে উদ্ধারকারীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন।
ভূমিকম্পের জেরে বিভিন্ন এলাকায় পাথর গড়িয়ে পড়ায় জাতীয় সড়ক ৩১৭-এর একটি অংশে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ওই রাস্তায় আপাতত শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবা ও উদ্ধারকারী গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। সতর্কমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্য দিয়ে রেল পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা ইউএসজিএসের (USGS) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল নাগকুর প্রায় ১৯১ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে। এলাকাটি উত্তর তিব্বতের দুর্গম ও উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত। ইউএসজিএস ভূমিকম্পটির গভীরতা প্রায় ১৮ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে, চীনের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
হিমালয়-তিব্বত অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণে এলাকাটি ভূমিকম্পপ্রবণ। মূল কম্পনের পরেও একাধিকবার আফটারশক হয়। এর ফলে বাড়িঘরগুলির আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পাশাপাশি প্রশাসন উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।




