ভারত–মার্কিন অন্তর্বর্তী বাণিজ্য-সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সোমবার আমেরিকায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। লক্ষ্য ছিল চুক্তির আইনি কাঠামো চূড়ান্ত করা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই বৈঠক স্থগিত হয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর। উভয় পক্ষই ‘পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়’ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমনটাই জানা গিয়েছে।
যদিও সরকারিভাবে নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি, কূটনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, এই বিলম্বের নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি। শুক্রবার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানায়, জাতীয় জরুরি অবস্থার বিধান প্রয়োগ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে আমদানি শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা বেআইনি। আদালতের মতে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘনের শামিল।
Advertisement
এই রায়ের পরেই ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে ‘সাময়িক শুল্ক’ ঘোষণা করে। প্রথমে ১০ শতাংশ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা আরও বাড়িয়ে তা ১৫ শতাংশ করা হয়। ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারা উল্লেখ করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ১৫০ দিনের বেশি এমন শুল্ক কার্যকর রাখা কঠিন।
Advertisement
এই অনিশ্চয়তার আবহে দিল্লির কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশও বদলাচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন আদালতের রায় ও প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ, ওয়াশিংটনের নীতিগত স্থিতি স্পষ্ট না-হওয়া পর্যন্ত নয়াদিল্লিও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক ক্রমেই কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে। কিন্তু আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন সেই প্রক্রিয়াকে সাময়িক ভাবে থামিয়ে দিল। এখন নজর, কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের অবস্থান কত দ্রুত স্পষ্ট হয় এবং তার পর ভারত–মার্কিন বাণিজ্য-আলোচনা কোন পথে এগোয়।
Advertisement



