বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে তারিক রহমানের জয়কে ‘গণতন্ত্রের জয়’ বলে উল্লেখ করলেন প্রাক্তন কূটনীতিক বীণা সিক্রি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই ফলাফল জামাত-ই-ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য ‘একটি বড় ধাক্কা’ হিসেবে দেখা উচিত। তাঁর মন্তব্য ঘিরে দুই দেশেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বীণা সিক্রি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ যে রায় দিয়েছেন, তা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়, বরং গণতান্ত্রিক চেতনার পক্ষে।’ তাঁর মতে, এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে সাধারণ মানুষ স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সাংবিধানিক কাঠামোর ধারাবাহিকতাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
Advertisement
তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে সামনে এনে কিছু শক্তি জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল দেখিয়ে দিয়েছে, ভোটাররা বিভাজনের রাজনীতিকে সমর্থন করেননি। তাঁর কথায়, ‘এই রায় স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে— বাংলাদেশে চরমপন্থী বা মৌলবাদী রাজনীতির স্থান ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।’
Advertisement
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, তারিক রহমানের জয় ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধী শক্তির পুনর্গঠন, জোট রাজনীতির নতুন সমীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
অন্যদিকে, জামাত-ই-ইসলামী ঘনিষ্ঠ মহল এই মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক ব্যাখ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, ভোটের ফলাফলকে একতরফাভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল যে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন রেখা টেনেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
সামগ্রিকভাবে, এই নির্বাচনী ফলাফলকে ঘিরে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনে এই রায় দেশের নীতি নির্ধারণ, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন সবার নজর।
Advertisement



