সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আবহে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সর্বদল বৈঠক অনুষ্ঠিত হল নেপালের সীমান্তবর্তী রাউতাহাট জেলাতে। জেলার সদর শহর গৌরে দুই গোষ্ঠীর `মধ্যে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
রবিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিক এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শেষে একটি যৌথ বিবৃতিতে সকল সম্প্রদায়কে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা সকলের দায়িত্ব। অশান্তি ও সংঘর্ষের ফলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষই।’
Advertisement
শুক্রবার উভয় গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ছয় দফা সমঝোতা হলেও শনিবার সকালে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একটি গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর জেরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে কারফিউ জারি করে রাউতাহাট জেলা প্রশাসন দপ্তর।
Advertisement
কারফিউ জারির ফলে গৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে টহলদারি জোরদার করা হয়েছে। এদিকে, নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও একটি বিবৃতি দিয়ে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো, হিংসা উস্কে দেওয়া বা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ভারতের সীমান্তবর্তী এই জেলাটিতে অতীতেও সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সাক্ষী থেকেছে। ফলে সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষকে ঘিরে প্রশাসন বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে। সর্বদল বৈঠকের মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
Advertisement



