• facebook
  • twitter
Saturday, 11 April, 2026

ক্ষতবিক্ষত শরীর, তবু সিদ্ধান্তে দৃঢ়! মোজতবাকে ঘিরে বাড়ছে রহস্য

মোজতবা খামেনেইয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। গুরুতর জখমের পরও কি তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন, নাকি বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ— বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক মহলে ফের জল্পনা। ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইকে ঘিরে একের পর এক পরস্পরবিরোধী দাবি সামনে আসায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন ও ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের একাংশের তরফে দাবি করা হয়েছিল, কোম শহরের একটি গোপন হাসপাতালে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় চিকিৎসাধীন তিনি। তাঁর শেষকৃত্যের প্রস্তুতিও নাকি শুরু হয়ে গিয়েছে।

তবে সেই দাবি কার্যত খারিজ করে এবার নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, হামলার জেরে গুরুতর জখম হলেও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন মোজতবা। তাঁর মুখে গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে এবং পায়ের আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে, চিকিৎসকদের একটি পা বাদ দিতে হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

Advertisement

এই শারীরিক বিপর্যয়ের মধ্যেও মানসিকভাবে যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছেন তিনি। সূত্রের দাবি, অডিও মাধ্যমে শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন মোজতবা। ইসলামাবাদে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাঁকে ‘সাহসী নেতা’ হিসেবে তুলে ধরছে, যা দেশের অভ্যন্তরে তাঁর নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোরই ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement

অন্যদিকে, মার্কিন রিপোর্টে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মোজতবার শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে, তিনি কার্যত পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থায় নেই। এমনকি তাঁর মৃত্যু শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেও দাবি করা হয়েছে। এই দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ইরান অবশ্য শুরু থেকেই এই সব অভিযোগকে ‘মনস্তাত্ত্বিক’ যুদ্ধের অংশ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, যুদ্ধে সুবিধা করতে না পেরে শত্রুপক্ষ এখন বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল নিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেই এবং তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। সেই হামলাতেই গুরুতর জখম হন তাঁর পুত্র মোজতবা। পরে তাঁকেই দেশের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এতদিন কেটে গেলেও জনসমক্ষে একবারও দেখা যায়নি তাঁকে। কোনও ছবি বা ভিডিওও প্রকাশ করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। এখন প্রশ্ন, সত্যিই কি সুস্থ হয়ে উঠছেন মোজতবা, নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও বড় কোনও রহস্য— সেই উত্তরই খুঁজছে গোটা বিশ্ব।

Advertisement