• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 1 August, 2026

পোল্যান্ডে নির্বাসিত রুশ শিল্পী ও পুতিন সমালোচক কার্টুনিস্টকে গুলি করে হত্যা

সম্প্রতি তিনি সমাজমাধ্যমে রুশ নেতৃত্বের সমালোচনা করে বিভিন্ন পোস্টও শেয়ার করেছিলেন।  

পোল্যান্ডে নির্বাসিত রুশ শিল্পী ও পুতিন সমালোচক কার্টুনিস্টকে গুলি করে হত্যা

রুশ শিল্পী রবার্ট কুজোভকভের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে ইউরোপ জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ৪৪ বছরের এই শিল্পী পোল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলের শহর বিয়ালা পোডলাস্কাতে নিজের বাড়ির কাছেই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যে অনেক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে কি শুধুই অপরাধ জগতের হাত রয়েছে নাকি এই হত্যা রাজনৈতিক প্রতিশোধের জন্য?

জানা গিয়েছে, বিয়ালা পোডলাস্কায় নিজের বাড়ির কাছেই পার্কিং এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় রবার্ট কুজোভকভের। সোমবার সন্ধ্যায় আততায়ীরা প্রথমে দূর থেকে তাঁর উপরে গুলি চালায়। এরপর রবার্টের কাছে এসে আরও কয়েক রাউন্ড আততায়ীরা গুলি করে বলে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন। রবার্টের মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে মোট পাঁচটি গুলি লেগেছে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সেখানে উপস্থিত চিকিৎসকরা রবার্টকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর দুই বেলারুশ নাগরিককে পুলিশ আটক করেছে।

রবার্ট কুজোভকভ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ব্যঙ্গচিত্র ও রাজনৈতিক শিল্পকর্মের মাধ্যমে তিনি পুতিন, রমজান কাদিরভ এবং রুশ শাসকগোষ্ঠীকে নিয়মিত আক্রমণ করতেন। তাঁর ব্যঙ্গচিত্রে কখনও পুতিনকে নরকরোটির স্তূপের উপর বসিয়ে, কখনও আবার সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্ট্যালিনের কোলে দেখিয়ে তিনি বিতর্কের সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর শিল্পকর্মে সবসময়ই ব্যঙ্গ,  প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।  সম্প্রতি তিনি সমাজমাধ্যমে রুশ নেতৃত্বের সমালোচনা করে বিভিন্ন পোস্টও শেয়ার করেছিলেন।

২০২১ সালে রাশিয়া ছেড়ে পোল্যান্ডে আশ্রয় নেন কুজোভকভ। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরেই তিনি দেশত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু নির্বাসনে গিয়েও তাঁর শেষরক্ষা হল না। পোল্যান্ডের পুলিশ ও প্রসিকিউটর দপ্তর গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে রবার্ট কুজোভকভকে কী জন্য হত্যা করা হল তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড নিছক অপরাধমূলক ঘটনা নয়। কারণ রাশিয়া ছাড়ার পরও কুজোভকভ সমাজমাধ্যমে ক্রেমলিনের সমালোচনা করেছিলেন। ফলে তাঁর মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বাঁধছে। রবার্টকে হত্যার নেপথ্যে মস্কোর হাত রয়েছে বলেও অনেকে মনে করছেন।