• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 22 June, 2026

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে করমর্দন বাতিল, ইরান বৈঠক কক্ষ ছাড়লেও ভেস্তে গেল না শান্তি-উদ্যোগ 

কূটনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, উত্তেজনা সত্ত্বেও আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি।

পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে শান্তির পথ খুঁজতে সুইৎজারল্যান্ডে মুখোমুখি হয়েছিল আমেরিকা ও ইরান। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নাটকীয় মুহূর্তেরও সাক্ষী থাকল গোটা বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে এক সময় বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান ইরানের প্রতিনিধিরা। তবে উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনা পুরোপুরি ভেস্তে যায়নি। উল্টে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছতে উভয় দেশ একটি রোডম্যাপ প্রস্তুতে সম্মত হয়েছে। সুইৎজারল্যান্ডে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স।

কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশেই শুরু হয়েছিল। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে, যা পুরো প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক তত্ত্বাবধান করবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলবে আগামী কয়েক সপ্তাহ।

সেই বৈঠকে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল হরমুজ় প্রণালী। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা বজায় রাখতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা সামরিক উত্তেজনা এড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সমঝোতার পর ৬০ দিন পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু থাকবে।

সেইসঙ্গে লেবাননের পরিস্থিতিও আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সেখানে নতুন করে সংঘাত এড়াতে একটি বিশেষ সংঘাত নিরসন ব্যবস্থা তৈরির বিষয়েও উভয়পক্ষ সহমত হয়েছে। এতে লেবাননের প্রতিনিধিরাও যুক্ত থাকবেন।

তবে এই বৈঠক চলাকালীন ট্রাম্পের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারির সুরে জানান, ইরান যদি হিজবুল্লাহর মতো মিত্র গোষ্ঠীগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে আবার সামরিক পদক্ষেপ করতে পারে আমেরিকা। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বৈঠক কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও তাঁর প্রতিনিধিদল। এ নিয়ে সমাজমাধ্যমে একাধিক ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই আচমকা পিছন ফিরে ঘর থেকে বেরিয়ে যান আরাঘচি। আবার কিছুক্ষণ পরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এগিয়ে এসে শরিফ এবং পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনা করেন। পূর্বনির্ধারিত যৌথ ফটোশ্যুট এবং করমর্দনের অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়।

কূটনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, উত্তেজনা সত্ত্বেও আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি। ইরানের দাবি, হরমুজ় প্রণালী সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস এবং অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়ে তেহরান ইতিবাচক বার্তা পেয়েছে। আরাঘচি জানিয়েছেন, প্রথম দফার আলোচনা থেকে ইরানের বেশ কিছু লাভ হয়েছে। তাঁর দাবি, হরমুজ় প্রণালী থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার নিশ্চয়তা মিলেছে। যদিও এই বিষয়ে আমেরিকা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।