ভারত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপপুঞ্জ চাগোসকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। এমনকি মরিশাসের কাছ থেকে দ্বীপপুঞ্জটি কেনার ভাবনা চিন্তাও নাকি আলোচনায় রয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে দিয়েগো গার্সিয়া। ভারত মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত এই দ্বীপে রয়েছে আমেরিকা ও ব্রিটেনের যৌথ সামরিক ঘাঁটি, যা দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত দিক থেকে ওয়াশিংটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক ও গোয়েন্দা তৎপরতার ক্ষেত্রে এই ঘাঁটির গুরুত্ব অপরিসীম।
বর্তমানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমেরিকার অস্বস্তি ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। মার্কিন নীতি নির্ধারকদের একাংশের আশঙ্কা, দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ মরিশাসের হাতে গেলে ভবিষ্যতে সেখানে চিনের প্রভাব বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ইরান-সহ আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলিও পরোক্ষভাবে সুবিধা পেতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।
খবরে প্রকাশ, ওয়াশিংটন প্রথমে ব্রিটেন-মরিশাস চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা করতে পারে। তারপর দীর্ঘমেয়াদি লিজ বা অন্য কোনও ব্যবস্থার মাধ্যমে দিয়েগো গার্সিয়ার উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা হতে পারে। যদিও এই দাবি নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। এদিকে মরিশাস সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে তারা কোনও আপস করবে না। তাদের বক্তব্য, দ্বীপপুঞ্জটি ঐতিহাসিকভাবে মরিশাসের অংশ এবং এই প্রশ্নে আলোচনা বা দর কষাকষির সুযোগ নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু একটি দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারত মহাসাগরে শক্তির ভারসাম্য, চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং পশ্চিম এশিয়া থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক পর্যন্ত বিস্তৃত কৌশলী প্রতিযোগিতা। ফলে চাগোসকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে ওয়াশিংটন, লন্ডন ও মরিশাসের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।




