• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 3 October, 2026

এল আল বিমান, আল কায়দার নেতাদের ছবি, ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট হামাম আল হাম্মামির লিঙ্কডইউ পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

৩০ সেপ্টেম্বর তেল আভিভগামী বিমানে হামলার কয়েক বছর আগে তাঁর উগ্রপন্থী কার্যকলাপের আশঙ্কায় ওমানে তাঁকে বিমান চালানোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে একাধিক প্রতিবেদন দাবি করা হয়েছে

এল আল বিমান, আল কায়দার নেতাদের ছবি, ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট হামাম আল হাম্মামির লিঙ্কডইউ পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

Image: SNS

ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai) ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে ছুরি দিয়ে হামাল করেছিলেন তাঁরই কো-পাইলট হামাম আল হাম্মামি। এখন তাঁর অতীত নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ৩০ সেপ্টেম্বর তেল আভিভগামী বিমানে হামলার কয়েক বছর আগে তাঁর উগ্রপন্থী কার্যকলাপের আশঙ্কায় ওমানে তাঁকে বিমান চালানোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে একাধিক প্রতিবেদন দাবি করা হয়েছে।

সিবিএস নিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমান এয়ারে পাইলট প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় আল-হামামি কয়েকটি উগ্রপন্থী ওয়েবসাইটে যুক্ত থাকার প্রমাণ মেলে। এরপর তাঁকে বিমান চালানোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অফিসের কাজে পাঠানো হয়। পরে তিনি ওই বিমান সংস্থা ছেড়ে দেন এবং শেষ পর্যন্ত ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। তবে তাঁকে নিয়োগের আগে ওমান সরকারের কাছ থেকে কোনও নথি যাচাই করা হয়নি বলে সূত্রের দাবি।

এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানে ককপিটে হামলার ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ভারতীয় ক্যাপ্টেন মচ্ছরের উপর হামলার পাশাপাশি বিমানটিকে ক্র্যাশ করার কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না।

এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উগ্রপন্থী মতাদর্শের কারণে ওমানে তাঁকে বিমান চালাতে দেওয়া হয়নি। সিরিয়ায় থাকাকালীন তাঁর উপর উগ্রপন্থার প্রভাব পড়েছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: তেল আভিভগামী বিমানে হামলায় অভিযুক্ত কো-পাইলটের পরিচয় খতিয়ে দেখতে চলছে তদন্ত

আরও কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আল-হাম্মামি দুবাইয়ে ইজরায়েলি বিমান সংস্থা এল আল-এর বিমান সংক্রান্ত একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। ভিডিওটির শেষে দেখা যায়, আল-কায়দার প্রাক্তন নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির ছবি। ২০২২ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় জাওয়াহিরি নিহত হন।

অভিযুক্ত সহ-পাইলটের সমাজমাধ্যমের কার্যকলাপ নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সিএনএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বরের ঘটনার প্রায় ন’ঘণ্টা পর আল-হাম্মামির নামে একটি লিঙ্কডইন অ্যাকাউন্ট থেকে দু’টি পোস্ট করা হয়েছিল। তবে ওই পোস্টগুলি কে আপলোড করেছিলেন বা আগে থেকেই সেগুলি সিডিউল করে রাখা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি সিএনএন।

অন্য একটি পোস্টে বোয়িং ৭৩৭  ম্যাক্স বিমানের ককপিট থেকে একটি ভিডিও তোলা হয়েছিল। সিসিএন ভিডিওটির একটি অংশকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে শনাক্ত করেছে। সেখানে ক্যামেরাকে  এল আল বিমানের দিকে জুম করতে দেখা যায়।

ভিডিওটির শেষে আল-জাওয়াহিরি এবং হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাওয়ির ছবি দেখা যায়। আল-বালাওয়ি আল-কায়দার অনুগামী ছিলেন। ২০০৯ সালে আত্মঘাতী হামলায় ন’জন নিহত হয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে সাত জন মার্কিন সিআইএ কর্মী ও ঠিকাদার ছিলেন।

দ্বিতীয় পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি একটি ছবি রয়েছে। সেখানে ইসলামের তিন পবিত্র স্থান—মক্কা, মদিনা এবং জেরুজালেম—একটি আলোকিত পথের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ‘আমাকে বারবার মারছিল’, ককপিটে হামলার ঘটনার ভয়াবহ ভিডিও প্রকাশ্যে

লিঙ্কডইন প্রোফাইলে আল-হাম্মামির ওমান এয়ারে প্রায় সাত বছরের কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ রয়েছে। এরপর মরক্কোর রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা রয়্যাল এয়ার মারোকে কাজ করার কথা রয়েছে।

সিএনএন প্রতিবেদন দাবি করা হয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে তিনি রয়্যাল এয়ার মারোকে কাজ করেছিলেন। এক ইজরায়েলি আধিকারিক সিএনএন-কে জানিয়েছেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের ঘটনার আগে প্রায় আট মাস ফ্লাইদুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন আল-হামামি। তবে তাঁর লিঙ্কডইন প্রোফাইলে ফ্লাইদুবাইয়ে কাজ করার কথা উল্লেখ ছিল না।

প্রোফাইলে বলা হয়েছে, ওমান এয়ারে তাঁর চাকরি শেষ হয় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রয়্যাল এয়ার মারোকে কাজ করেছিলেন।

ইংল্যান্ডের বাকিংহ্যামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছিলেন বলেও ওই প্রোফাইলে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-হাম্মামির ওমানি নাগরিকত্ব রয়েছে। তাঁর বাবা ওমানি এবং মা সিরীয় বংশোদ্ভূত।

দেখুন: ‘ভারতীয়রা প্রাণ নেয় না, প্রাণ বাঁচাতে ঝুঁকি নেয়’, স্মিতকে মোদী