ইরান, রাশিয়া এবং চিন মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেও পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ চলছেই। শুক্রবার আফগানিস্তান জানিয়েছিল, আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। কিন্তু পাকিস্তান আকাশসীমা লঙ্ঘন করে আফগানিস্তানে হামলা চালায়। পাকিস্তানের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আতাউল্লা তারার দাবি, রাতভর হামলায় ৩০০ আফগান তালিবান নিহত হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে ৮৯টি ঘাঁটি এবং ১৩৫টি ট্যাঙ্ক নষ্ট হয়েছে।
যদিও পাকিস্তানের এই দাবি অস্বীকার করেছে আফগানিস্তান। তারা বলেছে, পাকিস্তানের অনেক সেনা চৌকি ধ্বংস হয়েছে এবং অনেক সেনা নিহত হয়েছেন। কয়েকদিন আগে আফগানিস্তান পাকিস্তানের ৫৯টি স্থানে হামলা চালায়। এরপর পাকিস্তান পাল্টা ‘গজব লিল-হক অভিযান’ শুরু করে।পাল্টা আফগানিস্তান বিমান হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
Advertisement
এরপরই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানে হামলা আরও তীব্র করে আফগানিস্তান।শুক্রবার ইসলামাবাদের সেনাঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে আফগানিস্তান। উল্লেখ্য, যেখানে আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়, তার ৬ কিলোমিটার দূরে রয়েছে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দপ্তর। সীমান্তে দু’পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
Advertisement
এই পরিস্থিতিতে ইরান ও চিন উভয় পক্ষকে শান্তি স্থাপনের জন্য অনুরোধ করেছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মধ্যস্থতার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘পাকিস্তান ভালো কাজ করছে। তাদের প্রধানমন্ত্রী ও সেনা নেতৃত্বকে আমি সম্মান করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই যুদ্ধে আমি হস্তক্ষেপ করব। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। তাদের প্রধানমন্ত্রী একজন মহান নেতা।
তাদের সেনা সর্বাধিনায়কও মহান।’ মার্কিন বিদেশ দপ্তরও পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন জানিয়েছে। দু’পক্ষের সংঘর্ষের কারণে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত উত্তপ্ত। আফগানিস্তানের হামলার জবাবে পাকিস্তানও বিমান হামলা চালিয়েছে। আফগানিস্তান জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানের অন্তত ১২টি সেনা পোস্ট দখল করেছে। উভয়পক্ষেই সেনা নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে, এবার সরাসরি যুদ্ধ হবে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত সংঘর্ষ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। উভয়পক্ষই আকাশসীমা লঙ্ঘন, সেনাচৌকি ধ্বংস এবং বিমান হামলা চালাচ্ছে, যা সীমান্ত অঞ্চলে বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা, ইরান ও চিনের প্রস্তাব এখনও কার্যকর হয়নি।
তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে পাকিস্তানকে সমর্থন জানিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। এই সংঘর্ষে সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষও বিপদে পড়তে পারে। কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, আলোচনা ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো না গেলে, পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠবে।
Advertisement



