তাইওয়ানকে শিক্ষা দিতে চায় চিন

Written by SNS May 25, 2024 4:55 pm
বেজিং, ২৫ মে – তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক মহড়া শুরু করেছে চিন। মহড়ায় যৌথভাবে অংশ নিয়েছে পিএলএ-র এয়ারফোর্স ও নেভি।জিনপিং প্রশাসনের দাবি, তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপের পাল্টা ২ দিনের এই সামরিক মহড়া। তাইওয়ানের জল এবং আকাশসীমার কাছে নতুন করে যুদ্ধ মহড়া শুরু করেছে চিনের পিপলস্‌ লিবারেশন আর্মি।চিনা ফৌজের ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড ঘোষণা করেছিল, সমুদ্রে প্রত্যাঘাতের সক্ষমতা যাচাই করতেই এই মহড়া। কিন্তু এর পরেও বেজিং জানায়, ‘তাইওয়ানকে শিক্ষা দেওয়া’ তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
 
সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, তাইওয়ান এবং আমেরিকার উপরে নিজেদের সামরিক চাপ বজায় রাখতেই তাইওয়ান এবং তার সংলগ্ন এলাকায় প্রভাব বাড়াতে চাইছে শি জিনপিংয়ের সরকার। কোনও আগাম ঘোষণা ছাড়াই বৃহস্পতিবার ‘দ্বীপরাষ্ট্র’ তাইওয়ানের সীমান্ত ঘেঁষে মহড়া শুরু করে চিনা সেনা। শুক্রবার চিনের সামরিক মুখপাত্র লি শি বলেন, ‘‘তাইওয়ান স্বাধীনতার নামে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ চালাচ্ছে। তাই কঠোর শাস্তি হিসেবে এই মহড়া চালানো হচ্ছে। বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ এবং উস্কানির বিরুদ্ধেও কড়া সতর্কবার্তাও দেওয়া হচ্ছে।’’
 
এই দিন চিনের মহড়া শুরুর পরপরই সেনা ক্যাম্পে চলে যান তাইওয়ানের নতুন প্রেসিডেন্ট। ক্যাম্প থেকে বেরনোর আগে তাঁর বক্তব্যও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “সেনাদের উত্‍সাহ দিতে এসেছিলাম। প্রেসিডেন্ট হিসাবে দেশকে সুরক্ষিত রাখা আমার কর্তব্য। দুনিয়া এখন গণতান্ত্রিক তাইওয়ানের উত্থান দেখছে। আমরা স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপোস করব না।” সোজা কথায়, চিনের সামরিক মহড়ার সামনেও দৃঢ় তাইওয়ান। কিন্তু যদি চিন তাইওয়ান আক্রমণ করে তাহলে লালফৌজের সামনে তাদের শক্তি কতটা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
 
গত দুই বছরে বেশ কয়েকবার তাইওয়ানের জল এবং আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে বেজিং। প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের আগস্টে চিনের আপত্তি খারিজ করে আমেরিকার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভস- এর স্পিকার, ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই  সময় ধারাবাহিকভাবে তাইওয়ানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে শুরু করে চিনা যুদ্ধবিমান। চিন-তাইওয়ান সঙ্কটের আবহে সে সময় আমেরিকার সপ্তম নৌবহরের অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ তাইওয়ান প্রণালীতে ঢুকেছিল। এর পর সাময়িক ভাবে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্দেশ্যে দু’পক্ষ কিছুটা নমনীয় হলেও চলতি বছর তাইওয়ানের সাধারণ নির্বাচনে কট্টর চিন-বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি-র জয়ের পর নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে।
 
চিনের ২০ লক্ষ সেনা। তাইওয়ানের ১ লক্ষ ৭০ হাজার। এর পাশাপাশি ট্যাঙ্ক, সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমানের নিরিখেও দু-দেশের কোনও তুলনা করা কঠিন । প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনের শক্তি বুঝেই গত কয়েক বছর ধরে নতুন যুদ্ধকৌশল তৈরি করেছে তাইওয়ান। চিন যদি হামলা চালায় তাহলে পর্কুপাইন কৌশল নেবে তাইওয়ানের সেনা। সর্বোপরি, তাইওয়ানের উপর চিনা আগ্রাসন হলে আন্তর্জাতিক মহল কতটা পাশে থাকবে সেই সব বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখার বিষয় ।