মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরান এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে রাজি হয়নি। তবে তাঁর মতে, পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরতেই হবে। শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতৃত্ব নিজেদের বর্তমান অবস্থান মেনে নিতে হিমশিম খাচ্ছে, কারণ দীর্ঘদিন পর তারা এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যা আগে কখনও কল্পনাও করেনি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত চার মাসে পড়েছে। যদিও এপ্রিল মাসে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে একাধিকবার সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, তবুও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ওরা শক্তিশালী, ওরা গর্বিত। এমন কিছু করতে বাধ্য হচ্ছে, যা তারা কখনও ভাবেনি। কিন্তু তাদের আর কোনও বিকল্প নেই। বিষয়টি মেনে নিতে শুধু একটু সময় লাগছে।” তাঁর দাবি, গত ৪৭ বছর ধরে ইরান কার্যত কোনও বড় বাধার মুখে পড়েনি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অবস্থান অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তবে কূটনৈতিক স্তরে এখনও অচলাবস্থা কাটেনি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও কোনও বড় অগ্রগতি হয়নি। আপাতত একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির মাধ্যমে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা চলছে। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলি ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য তুলে রাখা হয়েছে।
সূত্রের খবর, ইরান চায় তাদের তেল রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হোক, আটকে থাকা বিপুল অর্থ ফেরত দেওয়া হোক এবং বন্দরগুলির উপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হোক। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর উপর নিজেদের প্রভাবও বজায় রাখতে আগ্রহী তেহরান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত মিলেছে পাকিস্তানের ভূমিকা থেকেও। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি শনিবার তেহরানে পৌঁছেছেন। তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা মোজতবা খামেনেইর উদ্দেশে একটি বিশেষ বার্তা নিয়ে গিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
অন্যদিকে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক সংঘর্ষও অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালী এলাকায় ইরানের ড্রোন হামলার আশঙ্কায় তারা ইরানের কয়েকটি উপকূলীয় রাডার ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। পাল্টা ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বজায় থাকলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস ও কৌশলগত স্বার্থের সংঘাতের কারণে দ্রুত কোনও স্থায়ী শান্তি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত।




