• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 10 June, 2026

বিশ্বকাপের নতুন নায়কদের খোঁজে ফুটবলবিশ্ব, নজরে তরুণ তারকারা

কয়েকজন উদীয়মান ফুটবলার সম্পর্কে এখানে তুলে ধরা হয়েছে, যাঁরা বিশ্বকাপের আসরে নিজেদের মেলে ধরতে পারেন।

রাজীব ঘোষ

ফুটবলের বিশ্বকাপ মানেই নতুন নায়কের আবির্ভাব। প্রতি বিশ্বকাপেই এক বা একাধিক নতুন নায়কেরা উঠে আসেন। তাঁরা প্রত্যেকেই ফুটবলারদের নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করেন ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধে। অতীতে যেমন কিলিয়ান এমবাপে, জেমস রড্রিগেজ বা থমাস মুলার বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে ফুটবল বিশ্বে নিজেদের আগমনের ঘোষণা করেছিলেন, তেমনই আসন্ন বিশ্বকাপেও কয়েকজন তরুণ ফুটবলারের দিকে বিশেষ নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের। এই বিশ্বকাপে ভবিষ্যতের সুপারস্টারদের দেখা মিলতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এমনই কয়েকজন উদীয়মান ফুটবলার সম্পর্কে এখানে তুলে ধরা হয়েছে, যাঁরা বিশ্বকাপের আসরে নিজেদের মেলে ধরতে পারেন।

নিকো পাজ – মেসির উত্তরসূরীর দৌড়ে
সম্ভবত এটিই লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে। কিন্তু আর্জেন্টিনার ফুটবলে মেসির পর কে হয়ে উঠবেন মহাতারকা, তা নিয়ে এখনই জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। আর এই চর্চায় বারবার উঠে আসে ২১ বছর বয়সি নিকো পাজের নাম। ইতালির সিরি আ-তে ইন্টার মিলানের হয়ে ১২টি গোল ও সাতটি অ্যাসিস্ট করা নিকো গত মরসুমে ইতালির লিগে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে নেন। গত মরসুমে তিনি ছিলেন বিশ্বের পাঁচ সেরা ফুটবলারদের অন্যতম। এ বার আর্জেন্টিনার ম্যাচে অবশ্যই তাঁর ওপর নজর থাকবে সবার।

রায়ান- ব্রাজিলের নতুন তারকা
১৯ বছরের এই উইঙ্গারকে মার্চেই জাতীয় দলে ডেকে নেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো অ্যান্সেলোত্তি। প্রাক বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে পানামার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে প্রথম গোল করেন তিনি। গত মরসুমে ব্রাজিলের ভাস্কো দা গামা ক্লাবের হয়ে ২০টি গোল করেছেন তিনি। ক্লাবকে কোপা দো ব্রাসিল-এর ফাইনালেও তোলেন তিনি। তাঁর এই পারফরম্যান্সের জন্য ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব বোর্নমাউথ তাঁকে নিয়ে নেয়। সেখানে তিনি ১৫টি ম্যাচে পাঁচটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেন।

দেজিরে দুয়ে – ফ্রান্সের নতুন প্রজন্ম
ফরাসি ফুটবলের নতুন মুখ দেজিরে দুয়ে। আক্রমণভাগে তাঁর সৃজনশীলতা এবং গোল করার দক্ষতা ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। ২০২২-এ পেশাদার ফুটবলে আসেন রেনে ক্লাবে যোগ দিয়ে। সেখানকারই যুব অ্যাকাডেমির ফসল তিনি। আক্রমণ বিভাগে নির্ভরযোগ্য এই ২১ বছর বয়সী তারকাকে পিএসজি ২০২৪-এ নিয়ে আসে পাঁচ কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফি দিয়ে। ২০২৫ ও ২০২৬-এর চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী দলেও ছিলেন তিনি। ফ্রান্সের সেরা ক্লাবের হয়ে এ পর্যন্ত ১৩ গোল করেছেন। ২০২৪-এর অলিম্পিক্সেও ফ্রান্সের হয়ে খেলেছেন তিনি। সেখানে দশ ম্যাচে তিন গোল করেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে এ পর্যন্ত দুগোল করেছেন দুয়ে। শক্তিশালী ফরাসি দলে তিনি বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

হোয়াও নেভেস – পর্তুগালের ভবিষ্যৎ তারকা
পর্তুগালের তরুণ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হোয়াও নেভেস ইতিমধ্যেই ইউরোপের অন্যতম সম্ভাবনাময় ফুটবলার হিসেবে পরিচিত। প্যারিস সেন্ট জার্মেইন ক্লাবের নির্ভরযোগ্য মিডিও তিনি। খেলেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবেও। ১৮ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল শুরু করে প্রথম বছরেই পর্তুগালের বেনিফিকাকে লিগজয় করতে সাহায্য করেন নেভেস। ২০২৪-এ ৬ কোটি ইউরোর ট্রান্সফার ফি-র বিনিময়ে পিএসজি-তে যোগ দেন তিনি এবং ২০২৫ ও ২০২৬-এ পরপর দুবার পিএসজি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেতাব জয় করে। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং ম্যাচের গতি নির্ধারণের ক্ষমতা তাঁকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। বিশ্বকাপে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

কেনান ইলদিজ – তুরস্কের নতুন আশার আলো
তালিকার শীর্ষে অবশ্যই থাকবেন কেনান ইলদিজ। তুরস্কের এই তরুণ অ্যাটাকার ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের প্রতিভার ছাপ ফেলেছেন। তুরস্ক যখন শেষবার বিশ্বকাপে খেলেছিল, তখন তাঁর জন্মও হয়নি। ২১ বছর বয়সী জুভেন্টাসের এই তারকা ফরোয়ার্ড গতি, ড্রিবলিং এবং গোল করার ক্ষমতার জন্য তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের কাছে ত্রাস হয়ে উঠতে পারেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর পারফরম্যান্স তুরস্কের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হতে পারে।

ইয়ান দিয়োমান্দে – আইভরি কোস্টের বিস্ময়
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই আলোচনায় উঠে এসেছেন ইয়ান দিয়োমান্দে। জার্মানির আরবি লিপজিগ ক্লাব তাঁকে ১০০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে লেগানেস থেকে নিয়ে এসেছে। প্রায় ছ’ফুট উচ্চতার এই উইঙ্গারের অসাধারণ গতি এবং আক্রমণভাগে তাঁর সৃজনশীলতার জন্য আফ্রিকার অন্যতম প্রতিভাবান ফুটবলার বলা হচ্ছে তাঁকে। বুন্দেসলিগায় ১২টি গোল ও আটটি অ্যাসিস্ট ছিল তাঁর। লিগ টেবলে লিপজিগের তিন নম্বরে থাকা ও আগামী চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্য অর্জন করার পিছনে তাঁর এই পারফরম্যান্সের গুরুত্ব ছিল যথেষ্ট। আসন্ন বিশ্বকাপে বড় মঞ্চে পরীক্ষা তাঁর। এবার সারা দুনিয়ার সামনে নিজের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন তিনি।

বিশ্বকাপ ২০২৬-এ একদিকে যেমন দেখা যাবে কিংবদন্তি লিওনেন মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, কিলিয়ান এমবাপেদের, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্যও এই মঞ্চে থাকবে নিজেদের প্রমাণ করার সুবর্ণ সুযোগ। অনেকেই মনে করছেন, এবারের বিশ্বকাপ থেকেই আগামী দশকের ফুটবল তারকাদের জন্ম হতে পারে। ফুটবল বিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে—এই তরুণদের মধ্যে কে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হয়ে ওঠেন, তা দেখার জন্য।