• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 19 July, 2026

ফের অভিষেকের অফিসে চলল বুলডোজার, জারি স্থগিতাদেশ

আমতলা এলাকায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় আবার ভাঙা শুরু করল প্রশাসন। রবিবার দুপুরে সেখানে বুলডোজার এসে হাজির হয়।

ফের অভিষেকের অফিসে চলল বুলডোজার, জারি স্থগিতাদেশ

Image: IANS

আমতলা এলাকায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় আবার ভাঙা শুরু করল প্রশাসন। আজ রবিবার দুপুরে সেখানে বুলডোজার এসে হাজির হয়। দমকল, পুলিশ সবাই এলাকায় মোতায়েন। একটা চাপা টান টান উত্তেজনা। এই দফতর ভাঙার প্রতিবাদে অভিষেকের সংস্থা লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস কলকাতা হাই কোর্টে ছুটেছে। মামলার শুনানি চলার মাঝেও থেমে থাকেনি ভাঙার কাজ। তবে আজ কলকাতা হাইকোর্টের তরফে ওই কার্যালয় ভাঙার উপরে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে।

শনিবার অভিযোগ উঠেছিল, এই দফতর বেআইনি ভাবে তৈরি হয়েছে। তার কিছু অংশ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল প্রশাসন। রাতে তড়িঘড়ি দফতরের সবকিছু সরিয়ে ফেলা হয়। রবিবার আবার এসে পড়ে পুরকর্মীরা, যেন ব্যাপারটা এখানেই শেষ নয়। পুলিশ ঘিরে রেখেছে গোটা এলাকা।

শুধু বুলডোজার নয়, আরও আধুনিক যন্ত্রপাতি আনা হয়—এয়ার কম্প্রেসর, ভাইব্রেটর, কী নেই! আর অভিষেকও মুখ খুলেছেন, বলছেন, সব নিয়ম মেনেই এই বাড়ি তৈরি হয়েছে, প্ল্যান পাশ করিয়ে। পালটা প্রশাসনের দাবি—জনৈক সুশান্ত মণ্ডল লিখিত অভিযোগ করেন। জমিটা লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস-এর নামে বিক্রি হয়েছিল মতিউর রহমানের থেকে। নিয়ম মেনে সুশান্ত, মতিউর আর অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নোটিস দেওয়া হয়। জুলাইয়ের দু’টো নোটিশে ডাকা হয়েছিল শুনানিতে, কিন্তু অভিযোগ—তৃণমূলের কেউই হাজির হয়নি। এখানেই আবার অভিষেকের দাবি, দলের প্রতিনিধি গিয়েছিলেন।

শনিবার সকাল থেকেই ভাঙার কাজ শুরু। প্রথমেই ভাঙা হয় সামনের অস্থায়ী শেড—যেটা বাইরে থেকে সামান্য মনে হলেও ভেতরে রীতিমতো বিলাসবহুল আসবাব, এসি ছিল। শেড ভাঙতেই মূল ভবনের তালা ভাঙ্গে পুলিশ। গোটা বাড়িকে ঘিরে রেখেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী, দমকল, স্থানীয় প্রশাসন—সব আয়োজন তুঙ্গে।

ভবনের একাংশ ভাঙা হলে সঙ্গে সঙ্গে সংস্থার আইনজীবী হাই কোর্টে বিচারপতির কাছে মেল করে জরুরি শুনানির আরজি জানান। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ বিচারপতি বসুচৌধুরীর এজলাসে শুনানি শুরু হয়, রাজ্যের কোনও আইনজীবী তখনও হাজির হননি। বিচারপতি বলেন, রাজ্যকে আরও একবার নোটিস দিতে হবে। রাজ্যের বক্তব্য ছাড়া শুনানি এগোবে না। পরে রাজ্যের আইনজীবী ভার্চুয়ালি যোগ দেন, সময় চান সওয়ালের জন্য। বিচারপতি বলেন, দুপুর দেড়টায় ফের শুনানি হবে।

কিন্তু দেড়টার শুনানির আগে আবার পুরকর্মীরা দফতরে গিয়ে ভাঙার কাজ শুরু করেছে—প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিল, তারা থামবে না।