জয়ের জন্য শেষ দিকে প্রয়োজন ছিল আর কয়েকটি উইকেট। আফগানিস্তান তখন সাত উইকেট হারিয়ে চাপে। কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের ছবি বদলে দিল বাংলাদেশের (Bangladesh) জঘন্য ফিল্ডিং। সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিয়ে শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের (Afganistan) বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টে ড্র করেই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। ম্যাচের পর সেই আক্ষেপই ঝরে পড়ল বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর গলায়।
৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪৬ রানে আট উইকেট হারিয়ে থেমে যায় আফগানিস্তান। ম্যাচ বাঁচাতে ১৪২ ওভার ব্যাট করে তারা। এক সময় মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু শেষ দিকে একের পর এক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।
শুধু লড়াকু ব্যাটিং নয়, ম্যাচের শেষদিকে চোটের নাটকও করেন আফগান ব্যাটার কাইস আহমেদ। শেষ দিন আর তিন ওভার বাকি ছিল। আফগানদের ৮ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। তাইজুল ইসলামের একটা বল আটকে হঠাৎ পা ধরে বসে পড়েন কাইস। খোঁড়াতে খোঁড়াতে পিচের বাইরে গিয়ে শুয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসে মেডিক্যাল টিম।
তাঁর ফিট হয়ে ফের ব্যাটিংয়ে নামতে প্রায় ২ মিনিট চলে যায়। ওই সময় বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মুখ ছিল বিরক্তি ও হতাশায় ভরা। শেষ ওভারে দু’টো ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ ড্র করেন কাইস। ম্যাচ অবশ্য তার আগেই হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>🏮OSCAR WINNING ACTING BY QAIS AHMAD 🤣 – Only 10 minutes were left for the draw and afganistan batsman started acting 🤯 Litton das and every bangladesh player were laughing 😂 https://t.co/2h9MWdfsKr</p>— VK (@Aur_vicky) <a href=”https://x.com/Aur_vicky/status/2110015104964309369?ref_src=twsrc%5Etfw”>October 13, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>
ম্যাচের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘আমরা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কয়েকটি সুযোগও তৈরি করেছিলাম, কিন্তু সেগুলিকে কাজে লাগাতে পারিনি। প্রতিপক্ষ দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে। বিশেষ করে সিদিকুল্লাহ আতালের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করতেই হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই কিছুটা হতাশ লাগছে। তবে বলব না যে, আমরা খুব খারাপ ক্রিকেট খেলেছি। পাঁচ দিনই আমরা ভাল ক্রিকেট খেলেছি। বিশেষ করে এই পরিস্থিতিতে এবং এই পিচে আমাদের বোলাররা যে পরিশ্রম করেছে, তার জন্য ওদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।’
আরও পড়ুন: আজ সিরিজ জয়? সতর্কবার্তা তিলকের, বোলারদের কড়া বার্তা গম্ভীরের
আফগানিস্তানের (Afganistan) দ্বিতীয় ইনিংসে ১১১ রান করেন সিদিকুল্লাহ আতাল। ৩৩২ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে প্রথম টেস্ট শতরান করেন তিনি। তাঁর সেই লড়াই আফগানিস্তানকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখার ভিত তৈরি করে দেয়।
শেষ দিনে আতাল আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে জয়ের দরজা আরও খুলে গিয়েছিল। আফগানিস্তানের স্কোর তখন ২৮১/৭। হাতে ছিল প্রায় ২৩ ওভার। কিন্তু সেই সময়ই ফিল্ডিংয়ে একাধিক ভুল করে বাংলাদেশ।
ইয়ামিন আহমদজাইয়ের ব্যাটের ভিতরের কানায় লেগে বল স্টাম্পে আঘাত করলেও বেল পড়েনি। পরের ওভারেই পরপর দু’টি বলে রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। পরে কায়েস আহমেদও ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান। তিনি শেষ পর্যন্ত ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন।
শান্তর কথায়, ‘আমরা সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু সেগুলি ঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। অবশ্যই ভুল করেছি, সেটা আমাদের মেনে নিতে হবে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে সুযোগ খুব বেশি আসে না। তাই যে সামান্য সুযোগ পাওয়া যায়, সেগুলিকে কাজে লাগানো জরুরি।’
শান্ত মনে করেন, এই টেস্ট থেকে শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু রয়েছে বাংলাদেশের। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে চলা টেস্টে ক্লান্তির মধ্যেও কী ভাবে চাপ ধরে রাখতে হয়, তা শেখা জরুরি।
আরও পড়ুন: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইন্টারের ঘরের মাঠে ব্রুজের ৪ গোল, ধাক্কা খেল বায়ার্ন, ম্যান ইউনাইটেড-ও
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা খুব বেশি পাঁচ দিনের টেস্ট খেলি না। চতুর্থ বা পঞ্চম দিনের প্রথম সেশন পর্যন্ত ম্যাচ গড়ানোর অভিজ্ঞতাও আমাদের কম। এত দীর্ঘ সময় ধরে ম্যাচে টিকে থাকা, ক্লান্তির মধ্যেও সুযোগ তৈরি করা কিংবা ভাল বল করে যাওয়া—এই অভিজ্ঞতা আগামী সিরিজে আমাদের সাহায্য করবে।’
পিচ নিয়েও কোনও অজুহাত দিতে চাননি শান্ত। তাঁর মতে, পাঁচ দিনই ব্যাটিংয়ের জন্য যথেষ্ট ভাল ছিল উইকেট। শেষ দিনে স্পিনাররা কিছুটা সাহায্য পেলেও আফগান ব্যাটারদের কৃতিত্ব দিতে হবে।শান্তর কথায়, ‘সত্যি বলতে, আমরা ভাবিনি ম্যাচ চার দিনের মধ্যে শেষ হবে না। চতুর্থ ও পঞ্চম দিনেও উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভাল ছিল।
এই পরিস্থিতিতে আমাদের ভাল বোলারদের বিরুদ্ধে ওরা যেভাবে ব্যাট করেছে, তার প্রশংসা করতেই হবে। তবে আমাদের ভাল স্পিনার বা পেসারদের এই ইনিংসে ১০টি উইকেট নেওয়া উচিত ছিল। মাঝখানে আমরা কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেছি। সেই ছোট ছোট ভুলের কারণেই জয়টা হাতছাড়া হল।’জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেও শেষ হাসি হাসতে পারল না বাংলাদেশ। শান্তর কাছে তাই এই ড্র শুধু হতাশার নয়, ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের ভুল শুধরে নেওয়ারও শিক্ষা।
দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/WBXPWleJUWk?si=NuHq-JOlqEY0kKrk” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>