• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 14 October, 2026

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইন্টারের ঘরের মাঠে ব্রুজের ৪ গোল, ধাক্কা খেল বায়ার্ন, ম্যান ইউনাইটেড-ও

তবে মঙ্গলবার সবচেয়ে বড় চমক দিল বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুজ। ইন্টারের ঘরের মাঠ সান সিরোয় তারা জিতল ৪-৩ গোলে। অন্য দিকে, নরওয়ের ভাইকিংয়ের বিরুদ্ধে ৩-৩ গোলে আটকে গেল বায়ার্ন মিউনিখ। তুরস্কে গালাতাসারেকে ৪-১ গোলে হারিয়ে স্বস্তি ফিরল বার্সেলোনার শিবিরে

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইন্টারের ঘরের মাঠে ব্রুজের ৪ গোল, ধাক্কা খেল বায়ার্ন, ম্যান ইউনাইটেড-ও

Image: X

ইউরোপের সেরা ক্লাব লিগে এক রাতেই একাধিক নাটক দেখা গেল মঙ্গলবার। কোথাও হ্যাটট্রিকের সৌজন্যে অঘটন, কোথাও লাল কার্ডের ধাক্কায় জয় হাতছাড়া, আবার কোথাও প্রথমার্ধের ধাক্কা সামলে দাপুটে প্রত্যাবর্তন।

তবে মঙ্গলবার সবচেয়ে বড় চমক দিল বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুজ। ইন্টারের ঘরের মাঠ সান সিরোয় তারা জিতল ৪-৩ গোলে। অন্য দিকে, নরওয়ের ভাইকিংয়ের বিরুদ্ধে ৩-৩ গোলে আটকে গেল বায়ার্ন মিউনিখ। তুরস্কে গালাতাসারেকে ৪-১ গোলে হারিয়ে স্বস্তি ফিরল বার্সেলোনার শিবিরে।

ইন্টারের দুর্গে ত্রেসোল্ডির হ্যাটট্রিক

ইন্টারের রক্ষণে যে এত বড় ফাটল রয়েছে, তা বুঝিয়ে দিল ক্লাব ব্রুজ। ২২ বছর বয়সি ইতালীয় বংশোদ্ভূত জার্মান অনূর্ধ্ব-২১ দলের স্ট্রাইকার নিকোলো ত্রেসোল্ডির হ্যাটট্রিকেই ম্যাচের রং বদলে যায়।

প্রথমার্ধের আধ ঘণ্টা হওয়ার আগেই পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্রুজকে এগিয়ে দেন ত্রেসোল্ডি। পরে ইন্টারের গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেসের ভুলের সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন ত্রেসোল্ডি।

ম্যাচে ফেরার চেষ্টা অবশ্য করেছিল ইন্টার। বিরতির ঠিক আগে মার্কাস থুরামের তৈরি আক্রমণ থেকে গোল করেন লাউতারো মার্তিনেস। ৮১ মিনিটে আবার গোল করে ব্যবধান কমান আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী স্ট্রাইকার। তখন মনে হচ্ছিল, শেষ মুহূর্তে হয়তো ম্যাচে ফিরবে ইন্টার।

কিন্তু ৮৭ মিনিটে রোমিও ভারমান্তের গোল ইন্টারের প্রত্যাবর্তনের আশায় জল ঢেলে দেয়। সংযুক্ত সময়ে আনজ-ইওয়ান বোনির গোলে ব্যবধান কমলেও হার এড়ানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলে জেতে ক্লাব ব্রুজ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে ১-২ গোলে হেরেছিল ইন্টার। পর পর দু’টি ম্যাচে হারায় তাদের উপর চাপ আরও বাড়ল।

ইয়োরোর লাল কার্ডে বিপর্যয়, হার ম্যান ইউয়ের!

ম্যাচের শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। খেলা শুরুর এক মিনিটের মধ্যেই গোল করে আতলেটিকোকে এগিয়ে দেন পাবলো বারিয়োস। শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইউনাইটেড। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায় তাদের।

জোনাথন ডেভিডকে গোলের সামনে আটকাতে গিয়ে লাল কার্ড দেখেন ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার লেনি ইয়োরো। ফলে বাকি সময় ১০ জনে খেলতে হয় ইংল্যান্ডের ক্লাবকে।

ইয়োরো মাঠ ছাড়ার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান বাড়ায় আতলেটিকো। গোল করেন আদেমোলা লুকম্যান। দুই গোলের ধাক্কা এবং একজন কম নিয়ে খেলার চাপে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইউনাইটেড।

এই হারের ফলে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের কোচ মাইকেল ক্যারিকের উপর চাপ আরও বাড়ল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় মঞ্চে দলের ধারাবাহিকতার অভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ রক্ষা হল না লাল-হলুদের, এগিয়ে গিয়েও শেষে ২-৩-এ হার, এসিএল ২ থেকে কার্যত বিদায়

লাল কার্ডে শেষরক্ষা হল না বায়ার্নের

নরওয়ের ভাইকিংয়ের বিরুদ্ধে বায়ার্ন মিউনিখের ম্যাচেও নাটকের কমতি ছিল না। প্রথমার্ধে গিয়ানি স্টেনেসনেস এবং পিটার ক্রিশ্চিয়ানসেনের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভাইকিং।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য অন্য চেহারায় দেখা যায় বায়ার্নকে। হ্যারি কেনের জোড়া গোল এবং তাঁর তৈরি করা আর একটি গোলের সৌজন্যে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জার্মানির ক্লাবটি। মনে হচ্ছিল, দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও পুরো তিন পয়েন্ট তুলে নেবে তারা।

কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে মাইকেল অলিসের পর পর দু’টি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার ঘটনায় পরিস্থিতি বদলে যায়। ১০ জনের বায়ার্নের উপর চাপ বাড়ায় ভাইকিং। ম্যাচের শেষ মিনিটে হারমান হাউগেন গোল করে ৩-৩ করেন।

ফলে জয় নয়, এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বায়ার্নকে। অলিসের লাল কার্ডের কারণে পরের সপ্তাহে ঘরের মাঠে আর্সেনালের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তাঁকে পাবে না বায়ার্ন।

ইয়ামালের জাদুতে বার্সেলোনার প্রত্যাবর্তন

ইস্তানবুলে গালাতাসারের বিরুদ্ধে শুরুটা ভাল হয়নি বার্সেলোনার। ২৭ মিনিটে আলেক্সেই বাতরাকভের শটে এগিয়ে যায় তুরস্কের ক্লাবটি। জোয়াও ক্যানসেলোর গায়ে লেগে বল জালে ঢুকে যায়। প্রথমার্ধে বেশ কিছুটা চাপে ছিল বার্সেলোনা।

বিরতির পর অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় তারা। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন লামিনে ইয়ামাল। ৫০ মিনিটে তাঁর মাপা ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ফের্মিন লোপেস। তিন মিনিট পরে ইয়ামালের দুরন্ত ড্রিবলিংয়ের পর পাস থেকে গোল করেন অ্যান্টনি গর্ডন।

এর পর ৬৫ মিনিটে ইয়ামালের পাস থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে বল পেয়ে গোল করেন করিম আদেইয়েমি। শেষ পর্যন্ত ৪-১-এ জিতে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। প্রথমার্ধের ধাক্কা সামলে ইয়ামালের দুরন্ত পারফরম্যান্সে স্বস্তি ফেরে হান্সি ফ্লিকের দল।

আরও পড়ুন: রঞ্জি অভিযানের শুরুতেই দাপট মুম্বাই, উত্তরপ্রদেশ, হায়দরাবাদের, ইনিংসে জিতে বোনাস পয়েন্ট

সাত মিনিটে তিন গোল আর্সেনালের

ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে লিলের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছিল আর্সেনাল। কিন্তু প্রথমার্ধে ফরাসি ক্লাবের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। বিরতির পরেও দীর্ঘক্ষণ গোলের মুখ খুলতে পারেনি আর্সেনাল। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে অবশেষে প্রতিরোধ ভাঙেন জুরিয়েন টিম্বার। দুরন্ত দক্ষতায় বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।

এর পরেই শুরু হয় আর্সেনালের গোলের বন্যা। ৬৭ মিনিটে বুকায়ো সাকার পাস থেকে ব্যবধান বাড়ান এবেয়েরেচি এজে। তার চার মিনিট পর, ৭১ মিনিটে, কাই হাভার্টজের সঙ্গে বোঝাপড়া থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন সাকা।

মাত্র সাত মিনিটে তিন গোল করে লিলের যাবতীয় প্রতিরোধ শেষ করে দেয় আর্সেনাল। এই জয়ের ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দ্বিতীয় জয় পেল আর্সেনাল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১০টি ম্যাচের মধ্যে এটি তাদের নবম জয়। ইউরোপের সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতায় টানা ১৪টি লিগ-পর্বের ম্যাচ জিতে নিজেদের আধিপত্যও আরও এক বার প্রতিষ্ঠা করল আর্তেতার দল।

ভিয়ারিয়ালের কাছে নাপোলির হার

এ দিন ভিয়ারিয়ালের কাছে হারতে হয়েছে নাপোলিকে। ঘরের মাঠে ৩-১ গোলে জেতে স্পেনের ক্লাবটি। জর্জেস মিকাউতাদজে, সান্তিয়াগো মোরিনো এবং তানি ওলুসেয়ির গোলে জয় নিশ্চিত করে ভিয়ারিয়াল।

অন্য দিকে, পিএসভি আইন্দহোভেনকে ১-০ গোলে হারিয়ে জয় পেল আরবি লাইপজিগ। ৭৫ মিনিটে দূরপাল্লার শটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন ব্রাজিয়ান গ্রুডা। তার আগে পিএসভির ইভান পেরিসিচের পেনাল্টি আটকে দিয়েছিলেন লাইপজিগের গোলরক্ষক মাতেন ভানদেভার্ট।

দেখুন: