২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে এখনও নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেনি ইংল্যান্ড। কিন্তু মাঠে নামার আগেই যেন একের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছে থমাস টাচেলের দল। এবার তাদের বিশ্বকাপ শিবির কানসাস সিটিতে জারি হওয়া টর্নেডো সতর্কতা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে শিবির করছে ইংল্যান্ড দল। শনিবার সন্ধ্যায় ওই অঞ্চলে প্রবল ঝড় ও সম্ভাব্য টর্নেডোর আশঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারাও হোটেল এবং নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
খবর অনুযায়ী, ঘণ্টায় প্রায় ৮০ মাইল (প্রায় ১২৯ কিলোমিটার) বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। শহর জুড়ে টর্নেডো সাইরেন বেজে ওঠে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্যান ফেস্টিভ্যালও আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড শিবির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় এবং কারও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বে এ অবশ্য ইংল্যান্ডের প্রথম সমস্যা নয়। কয়েকদিন আগেই ফ্লোরিডা থেকে কানসাস সিটিতে আনার সময় দলের প্রশিক্ষণ সামগ্রী, ফুটবল এবং কয়েকজন তারকা ফুটবলারের বুট চুরি যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে আটক করলেও ঘটনাটি দলের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছিল।
সেই ঘটনা নিয়ে ডেইলি মেইল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, অজ্ঞাতপরিচয় চোরেরা ট্রেলার ভেঙে সরঞ্জাম নিয়ে পালিয়েছে। কিন্তু পরে তদন্তে উঠে আসে আরও নাটকীয় তথ্য।
তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সরঞ্জাম পরিবহনের দায়িত্বে থাকা ট্রাকের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং যাত্রাপথে মালপত্র সরিয়ে নেয়। আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দাবি করেছে যে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) এক অজ্ঞাত কর্মী তাদের কিছু সরঞ্জাম নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে সেই দাবি এখনও প্রমাণিত হয়নি।
চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল ফুটবলারদের ম্যাচ বুট, অনুশীলনের সরঞ্জাম, বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল, কোচিং স্টাফের বিশ্লেষণের উপকরণ, এমনকি স্বাক্ষর করা ইংল্যান্ড জার্সিও। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অধিনায়ক হ্যারি কেন এবং মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামের বুটও ওই গাড়িতে ছিল।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল কোচিং স্টাফের কৌশলগত বিশ্লেষণ সরঞ্জাম ও হোয়াইটবোর্ড খোয়া যাওয়ার ঘটনা। কারণ, এগুলিতে প্রতিপক্ষের বিশ্লেষণ ও দলের পরিকল্পনা সংক্রান্ত তথ্য থাকতে পারে। তবে পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, অধিকাংশ সরঞ্জাম উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
চুরির ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩,৫০০ পাউন্ড (প্রায় ১৫ লাখ টাকারও বেশি) বলে অনুমান করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আনা হয়, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে স্বস্তির খবর, অধিকাংশ সরঞ্জাম ফিরে পাওয়ার পর এখন ইংল্যান্ড দলের পুরো মনোযোগই রয়েছে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে। ইংল্যান্ড শিবিরের বিশ্বাস, মাঠের পারফরম্যান্সে এই ঘটনাগুলির কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।




