এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে বিরাট আলোচনার বিষয়। এই নির্বাচন অন্যান্য বারের মতো একেবারেই নয়। সব রাজনৈতিক দলগুলির ব্যস্ততা একেবারে চরম জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে। এমনকি নির্বাচন কমিশনার যেভাবে কঠিন হাতে এই নির্বাচন পরিচালনা করার ব্যবস্থা করেছে, তাতে কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে একটা ভীতিও খেলা করছে। একটা সময় বলা হত, ভোট মানেই উৎসব। উৎসবের মেজাজে সবাই তাঁদের প্রিয় প্রার্থীকে ভোট দিতেন। পাড়ায় পাড়ায় তার একটা আবেগ খেলা করত। কিন্তু এবারে অনেক কিছুই বদলে গেছে। তাই আজ প্রথম দফার নির্বাচনে ১৫২টি কেন্দ্রে প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। সব দলই চায় তাদের প্রার্থী নির্বাচনে চমক দিতে। হয়তো সেই কারণেই খেলোয়াড় থেকে শিল্পী, অভিনেতা থেকে সাংবাদিক, লেখক থেকে ডাক্তার ও অধ্যাপকদের প্রার্থী করিয়ে ভোটের বৈতরণী পার করতে চেষ্টা করে।
খেলার ময়দানে বেশ কিছু নামি খেলোয়াড়কে দলে অন্তর্ভুক্ত করে তাঁদের প্রার্থী করার একটা প্রবণতা সব দলেই লক্ষ্য করা গিয়েছে। এবারে বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের যেমন খেলোয়াড়রা প্রার্থী হয়েছেন, তেমনই আবার বিজেপিও খেলোয়াড়দের প্রার্থী করে প্রচারে নেমে পড়েছে। প্রথম দফায় এমন চারজন খেলোয়াড় রয়েছেন, যাঁরা জাতীয় স্তর থেকে আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁদের নাম লিখিয়ে ফেলেছেন। হয়তো অনেকেই ভাবতেই পারেননি কোনও দলের হয়ে বিধানসভায় প্রার্থী পদের টিকিট পাবেন। এই চারজন প্রার্থীর মধ্যে দু’জন ক্রিকেটার রয়েছেন, একজন অ্যাথলিট আর অন্যজন হলেন হকি খেলোয়াড়। এঁদের মধ্যে একজন গত বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী হয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেছিলেন। তিনি হলেন ক্রিকেটার অশোক দিন্দা। অশোক দিন্দা দীর্ঘদিন বাংলা দলের হয়ে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, অধিনায়কের ব্যাটনটা হাতে নিয়ে দলকে পরিচালনা করেছেন। এবারেও তিনি প্রার্থী। আরও একজন ক্রিকেটার একেবারে আনকোরা বিধানসভায় প্রার্থী। তিনি হলেন শিবশঙ্কর পাল। শিবশঙ্কর পাল বাংলার হয়ে জাতীয় স্তরের ক্রিকেটে দারুণ খেলেছেন। ক্রিকেট থেকে সরে আসার পরে কোচ হিসেবেও তাঁর সুনাম রয়েছে। শিবশঙ্কর এবারে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলায় তুফানগঞ্জ কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়াই করছেন।
Advertisement
আন্তর্জাতিক স্তরে অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে। স্বপ্না ২০১৭ সালে এশিয় অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে হেপটাথলনে সোনা জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। একক ইভেন্টে তিনিই প্রথম সোনা জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে। ২০১৮ সালে জাকার্তা এশিয়ান গেমসে হেপটাথলনে সোনার পদক জিতে ভারতের সম্মান আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সেই স্বপ্নাই এবারে ভোটের দৌড়ে বাজিমাত করতে পারেন কিনা, তার জন্য সবাই অপেক্ষায় রয়েছেন। ভারতীয় হকি দলের অধিনায়ক গোলরক্ষক ভরত ছেত্রী নির্বাচনে লড়াই করতে নেমেছেন বিজেপির হয়ে কালিম্পং কেন্দ্র থেকে। স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়রা যেভাবে খেলার ময়দানে লড়াই করে বাজিমাত করেন, সেই লড়াই এবার ভোটের ময়দানে। প্রথম দফার নির্বাচনে এই চার খেলোয়াড়ের মধ্যে কে জয়লাভ করে শিরোনামে উঠে আসবেন, তার জন্য আগামী ৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
Advertisement
Advertisement



