• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 15 June, 2026

স্পেন খেতাব জয়ের স্বপ্নে বিভোর

স্পেন গ্রুপ 'এইচ'-এর খেলায় মুখোমুখি হবে পশ্চিম আফ্রিকার মধ্য আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ১০টি আগ্নেয়গিরির দ্বীপ নিয়ে একটা মনোরম দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে

Image: IANS

এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে অবশ্যই সবার চোখ থাকবে স্পেনের দলটির দিকে। এই দলটি যখন তখন খেলার রং বদলে দিতে জানে। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালে রূপকথার কাহিনি লিখে স্পেন ১-০ গোলে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে খেতাব জিতে নেয়। আর প্রথমবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রাজপুত্র আন্দ্রে ইনিয়েস্তা। ইনিয়েস্তার গোলে সেদিন বিশ্বজয় করেছিল স্পেন। তারপরের ষোলোটা বছর বিশ্বকাপ ফুটবলে স্পেনের কোনও আধিপত্য চোখে পড়েনি। এমনকি শেষ ষোলোর দলে নাম লেখাতে ব্যর্থ হয়েছে স্পেন।
স্পেন গ্রুপ ‘এইচ’-এর খেলায় মুখোমুখি হবে পশ্চিম আফ্রিকার মধ্য আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ১০টি আগ্নেয়গিরির দ্বীপ নিয়ে একটা মনোরম দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। সেখানে মাত্র ৫ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এমন একটা দেশের বিশ্বকাপ ফুটবলে অভিষেক হবে স্পেনের বিপক্ষে। তাই এই দিনটাকে স্মরণীয় করে রাখতে নতুন উদ্যমে স্পেনের বিরুদ্ধে কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কেপ ভার্দের ফুটবলাররা মাঠে নামবেন। ফিফা ক্রমতালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন। আর ৬৮তম স্থানে কেপ ভার্দে। ক্রমতালিকায় দুই দেশকে দেখলেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে স্পেনের দাপট কথা বলবে। তবে নতুন দেশ হিসেবে কেপ ভার্দে খুব সহজে ছেড়ে কথা বলবে না।
স্পেন দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ২০২২ সাল থেকে লুইস দেলা ফুয়েস্তে। তরুণ ফুটবলারদের প্লাবনে স্পেনের সাফল্য সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উয়েফা নেশনস লিগ ও ইউরো কাপ জেতার পরে স্পেনের তরুণ ফুটবলাররা যেন বিপ্লব তৈরি করেছেন। প্রত্যেকে আগুনের মতো ফুটছেন। শুধু অপেক্ষা বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য্ এবারের স্পেন দলে লামনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের মতো তরুণ তুর্কি ফুটবলাররা রয়েছেন। ১৮ বছর বয়সী লামিন ইয়ামালের দিকে সবার চোখ থাকবে।
এখন আর স্পেন তিকিতাকা ফুটবলে মেতে থাকে না। অতি আধুনিক ফুটবলের ছটায় হাইপ্লেসিং ফুটবল উপহার দেওয়ার জন্য জোর দিয়েছেন ফুটবলাররা। হঠাৎ হঠাৎ প্রতি আক্রমণে স্পেন প্রতিপক্ষ দলকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। সেই ফাঁকে গোল করে দলের জয়ের ভীতকে শক্ত করে। মাঝমাঠটা দলের সম্পদ। বিশেষ করে রুদ্রার মতন ফুটবলারকে অবশ্যই নজরে রাখতে হবে। বনা বলে স্পেনের ফুটবলাররা যেভাবে জায়গা করে নেন, তা বেশ বিপজ্জনক। খেলা তৈরি করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকায় থাকবেনদানি ওলমো। রক্ষণভাগকে সামাল দেওয়ার জন্য ব্যারিকেড গড়ে তুলবেন আয়েমেরিক লাপোর্তে, পাউ কুবারসিরা ও এরিক গার্সিয়ারা। কোচ ফুয়েন্তের বেশি পছন্দ ৪-৩-৩ ছকে খেলা।
তবে রণকৌশলে অনেক সময় অন্য অঙ্কে খেলতে দেখা যায় ফুটবলারদের। কেপ ভার্দের তরুণ ছেলেরা ছোটবেলা থেকে ফুটবল খেলা নিয়ে বেশি সময় ব্যস্ত থাকে। হয়তো সেই কারণে ফুটবলের প্রতি তাদের আলাদা অনুরাগ রয়েছে। তারই ফসল হিসেবে বিশ্বকাপ খেলাটা তাদের কাছে স্বপ্ন ছিল। তারই বাস্তব রূপ দেখতে পাওয়া যাবে। কোচ পেদ্রো ব্রিটোর প্রধান শক্ত দলগত সংহতি। ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ষসেরা কোচের সম্মান পেয়েছেন পেদ্রো ব্রিটো। দলকে নেতৃত্ব দেবেন রায়ান মেন্ডেস। আক্রমণে মুখ্য ফুটবলার বলতে জেমিরো মস্তেরিয়ো। যত কঠিন লড়াই হোক না কেন, সেরা খেলা খেলবার জন্যে কেপ ভার্দের ফুটবলাররা তৈরি রয়েছেন।