• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 18 June, 2026

কঙ্গোর বিরুদ্ধে পর্তুগালের ড্রয়ের পর রোনাল্ডোকে নিয়ে উঠল ঝড়! তীব্র সমালোচনা থিয়েরি অঁরি-র

পুরো ম্যাচে রোনাল্ডো গোলের সামনে তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই রোনাল্ডোর ফর্ম দেখে অবাক সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তাঁর ভক্তরা। বুধবার রাতে হিউস্টনে ১-১ ড্র হওয়া ম্যাচে রোনাল্ডো সাতটি শট নিয়েছেন গোলে। কিন্তু একটিও তিনকাঠির মধ্যে ছিল না, যা তাঁর সম্পর্কে ভাবাই যায় না। এই পারফরম্যান্স সত্ত্বেও কেন তাঁকে ৯০ মিনিট মাঠে রাখা হল, এই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। সমালোচকদের মধ্যে রয়েছেন ফ্রান্সের প্রাক্তন বিশ্বকাপ তারকা থিয়েরি অঁরি-ও।

বুধবার রাতে ম্যাচের শুরুতেই জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল পর্তুগাল। কিন্তু প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ইয়োয়ানে উইসার গোল কঙ্গোকে সমতায় ফেরায়। এর পর আর গোল করতে পারেনি রবার্তো মার্তিনেজের দল। পুরো ম্যাচে রোনাল্ডো গোলের সামনে তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি।

অবশ্য এটা যে খুব অপ্রত্যাশিত ঘটনা, তা একেবারেই নয়। কারণ, গত ন’টি ম্যাচেই রোনাল্ডো গোলহীন ছিলেন এবং পারফরম্যান্সও ভাল দেখাতে পারেননি। এই নিয়ে দশম ম্যাচে তিনি গোল পেলেন না, যা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর জীবনে আর কখনও আসেনি।

ম্যাচের পর ফক্স স্পোর্টসে বিশ্লেষণ করতে বসে অঁরি মন্তব্য করেন, তাঁর ধারনা, রোনাল্ডো দলের স্বার্থের বদলে নিজে গোল করার সুযোগই বেশি খুঁজছিলেন। তিনি বলেন, “দলের গোল দরকার ছিল, রোনাল্ডোর নয়। রোনাল্ডো এমন একটি পরিস্থিতিতে সতীর্থ ব্রুনো ফার্নান্ডেজের সামনে চলে আসে, যেখানে ব্রুনোর সামনে ভালো সুযোগ আসছিল। ওই মুহূর্তটিই পর্তুগালের আক্রমণভাগের বড় সমস্যাকে সামনে এনে দিয়েছে”।

ফরাসি কিংবদন্তি আরও ইঙ্গিত দেন যে, রোনাল্ডোর ব্যক্তিগত মাইলফলক ও গোলের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ কখনও কখনও দলের ভারসাম্য নষ্ট করছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ৪১ বছর বয়সী এই তারকার উপস্থিতি এখনও উল্লেখযোগ্য হলেও দলের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।

এই ম্যাচে রোনাল্ডো একটি ঐতিহাসিক নজির গড়েন। ৪১ বছর ১৩২ দিন বয়সে বিশ্বকাপ ম্যাচে শুরু করা সবচেয়ে বেশি বয়সের খেলোয়াড় এখন তিনিই। পাশাপাশি লিওনেল মেসির সঙ্গে ছটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া একমাত্র পুরুষ ফুটবলারদের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছেন। তবে এই ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিনটা নিশ্চয়ই ভুলে যেতে চাইবেন তিনি।

শুধু রোনাল্ডোই যে ভাল খেলতে পারেননি, তা নয়। তাঁর দলেরও দৈন্যদশা ফুটে ওঠে এই ম্যাচে। সারা ম্যাচে একটি মাত্র শট তাঁরা গোলে রাখতে পারে এবং সেটি থেকেই গোল পান নেভেস। আর কোনও শট তাঁরা তিন কাঠির মধ্যে রাখতেই পারেনি।

দলের এই অবস্থা দেখে স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বিগ্ন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। তিনি পরবর্তী ম্যাচে দলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমনকী রোনাল্ডোকে প্রথম দলে নাও রাখা হতে পারে এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন। আসলে রোনাল্ডোকে দলে রাখা নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে।

অনেকে বলতে শুরু করেছেন, রোনাল্ডোর মতো বড় মাপের তারকাকে দলের বাইরে রাখার সাহস তাঁর নেই।তবে ম্যাচের পরে সাংবাদিক বৈঠকে মার্তিনেজ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, দলে পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের আক্রমণের ধরন বদলাতে হবে। কঙ্গোর রক্ষণ আজ খুবই শক্তিশালী ছিল। ফ্রান্সিসকো কনসিকাও ও সেমেডোকে মাঠে আনার পর কিছুটা পরিবর্তন হয়েছিল। পেনাল্টি এরিয়ায় লিয়াও, রামোসদের উপস্থিতিও খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

তবে রোনাল্ডোকে নিয়ে আলাদা করে কোনও মন্তব্য করেননি মার্তিনেজ। বলেন, ‘আমাদের স্কোয়াডে ২৬ জন খেলোয়াড় আছে। তারা প্রত্যেকেই খেলার মতো অবস্থায় আছে। তাই আমাদের কোনও নির্দিষ্ট লাইন-আপ নেই। যে কোনও ম্যাাচে স্কোয়াডের যে কেউ খেলতে পারে। টুর্নামেন্ট যত এগোবে, তত আমাদের উন্নতি করতে হবে’।

পর্তুগাল এ দিন ৭৫ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখে এবং ৭২৪টি পাসের মধ্যে ৯২ শতাংশই ছিল নিখুঁত। কিন্তু সারা ম্যাচে মাত্র সাতটি শট নিতে পেরেছে তাদের স্ট্রাইকাররা। যার মধ্যে মাত্র একটি ছিল লক্ষ্যে। ম্যাচের পর রোনাল্ডোকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল তিনি কতটা হতাশ।

পরে তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে লেখেন, ‘যে রকম ভাবে শুরু করতে চেয়েছিলাম আমরা, সে ভাবে শুরু হয়নি। তবে এখনও কিছুই শেষ হয়ে যায়নি। মাথা উঁচু রাখতে হবে এবং পরের ম্যাচে ফোকাস করতে হবে।’ তবে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কোনও কথাই বলেননি তিনি।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে এখন পর্তুগালের সামনে কঠিন পরীক্ষা। গ্রুপে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান এবং কলম্বিয়া। এই দুই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন কি না রোনাল্ডো ও তাঁর দল, সারা দুনিয়া এখন সেই দিকেই তাকিয়ে থাকবে।