বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল একটাই— লিওনেল মেসি কতটা ফিট? সেই প্রশ্নের জবাব মাঠেই দিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ২০ মিনিট মাঠে ছিলেন। পেনাল্টি থেকে দুরন্ত গোল করলেন তিনি। দূর করলেন তাঁর চোট নিয়ে যাবতীয় উদ্বেগ। শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে ৩-০ জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে নামার আগে প্রচুর আত্মবিশ্বাস জোগাড় করে নিল আর্জেন্টিনা।
ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার সময় বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন মেসি। সেই কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁর ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এমনকি হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে আগের প্রস্তুতি ম্যাচেও তিনি মাঠে নামেননি। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি অবশ্য বারবার জানিয়েছিলেন যে দলের প্রধান লক্ষ্য বিশ্বকাপের আগে মেসিকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা।
আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে মাঠে নেমেই মেসি বুঝিয়ে দেন তিনি প্রস্তুত। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করার পথে বড় ভূমিকা নেন তিনি। গোলের চেয়েও বেশি স্বস্তির বিষয় ছিল মাঠে তাঁর সাবলীল চলাফেরা, গতি এবং আত্মবিশ্বাস, যা দেখে মনে হয়েছে হ্যামস্ট্রিং সমস্যার রেশ আর নেই। ম্যাচের আগে স্কালোনি জানিয়েছিলেন, মেসি খেলবেন ঠিকই, তবে তাঁকে নিয়ে কোনও ঝুঁকি নেওয়া হবে না। কতক্ষণ খেলবেন, তা শেষ মুহূর্তে ঠিক করা হবে। কিন্তু মাঠে নেমে আর্জেন্টাইন তারকা যে বার্তা দিলেন, তা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
এটি ছিল ক্লাব ও দেশের হয়ে লিওনেল মেসির কেরিয়ারের ৯১১তম গোল এবং আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর ১১৭তম গোল। পাশাপাশি এই গোলের মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা ফুটবলারও হয়ে গেলেন। বিশ্বজুড়ে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শক ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক দৃশ্য ছিল। কারণ, লিওনেল স্কালোনির দল ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের সাফল্য ধরে রাখার লক্ষ্যে এবার মাঠে নামতে চলেছে। ম্যাচের প্রথমার্ধে এজেকিয়েল বারকো আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। পরে মেসির পেনাল্টি থেকে গোলের পর দলের তৃতীয় গোলটি করেন থিয়াগো আলমাদা। ফলে বিশ্বকাপের আগে টানা দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচেও জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।
আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। তার আগে এই জয় দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা ধারাবাহিক ভাবে ভাল ফর্মে রয়েছে। শেষ কয়েকটি ম্যাচে তারা পরপর জয় পেয়েছে এবং রক্ষণ ও আক্রমণ—দুই বিভাগেই শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। এর সঙ্গে মেসির সুস্থ হয়ে ওঠা দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিল। এবার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন মেসি। ২০২২ সালে কাতারে শিরোপা জয়ের পর আবারও তাঁর নেতৃত্বে ট্রফি ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই গোল তাই শুধু একটি প্রস্তুতি ম্যাচের সাফল্য নয়, বরং বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।




