বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার পর দেখা গেল চোখের জল মুছছেন লিওনেল মেসি! যা দেখে অনেকেই অবাক হলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলেন, কেন এই চোখের জল?
আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে জার্মান কিংবদন্তি মিরোশ্লাভ ক্লোজের পাশে নিজের নাম লেখান আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি। কিন্তু ম্যাচের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে অন্য একটি বিষয়— প্রথম গোল করার পর কেন চোখের জল ফেলেন তিনি?
কানসাস সিটিতে গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে ১৭ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন মেসি। কিন্তু সেলিব্রেশনের সময় তাঁকে আবেগাপ্লুত হয়ে চোখ মুছতে দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে সেই দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সমর্থকদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এমন আনন্দের দিনে তাঁর চোখে জল কেন?
ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে সেই প্রশ্নের জবাব দেন মেসি নিজেই। তিনি বলেন, “এটার সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক ছিল না। কিছু কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে আসতে হয়েছে আমাকে। বিষয়টা খেলার থেকে সম্পুর্ণ আলাদা। আমি কিছু কঠিন ও জটিল সময় পার করে এসেছি। সেজন্যই চোখে জল চলে এসেছিল”।
এই হ্যাটট্রিকের জন্য দলের সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আরও বলেন, “আমি পুরো দলের প্রতিনিধি এবং আমার সতীর্থদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে ভালো রাখার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে।”
৩৮ বছর বয়সী মেসি শুধু হ্যাটট্রিকই করেননি, এই ম্যাচে একাধিক রেকর্ডও গড়েছেন। এটি ছিল তার বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক, একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা পৌঁছয় ১৬-তে। এর ফলে তিনি ক্লোজের নজির স্পর্শ করেন। এ ছাড়া তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সি হ্যাটট্রিকের নায়কের তকমাও অর্জন করলেন এই ম্যাচে।
এই চিরস্মরণীয় প্রাপ্তি নিয়ে মেসি বলেন, “এখন যে সব অভিজ্ঞতা অর্জন করছি আমি, সবই বোনাস। আমার সৌভাগ্য যে, আমার জীবনের সব স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। হয়তো তার চেয়ে বেশিই কিছু পেয়ে গিয়েছি। পেশাগত ও ব্যক্তিগত—দু ভাবেই। এখন আমি এই দলটার সঙ্গে থেকে সবকিছু উপভোগ করছি। মাঠে খেলতে নেমে প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করছি। ছোটবেলা থেকে এত কিছু পাওয়ার স্বপ্ন কখনও দেখিনি আমি”।
এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে দারুণ শুরু করেছে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে জয়ের রাতেও মেসির চোখের জল মনে করিয়ে দিল, ফুটবল তারকাদের জীবনেও মাঠের বাইরের ব্যক্তিগত সংগ্রাম থাকে— আর সেই সংগ্রামের আবেগই হয়তো বিশ্বকাপের ইতিহাস গড়ার রাতেও তাঁর চোখে জল এনে দেয়।
ম্যাচের পর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি মেসির প্রশংসা করে বলেন, “লিও মেসিকে বর্ণনা করার মতো ভাষা আমার জানা নেই। এমন অসাধারণ কীর্তি এখন আর আমার কাছে বিস্ময়কর নয়। মেসি বারবার প্রমাণ করে চলেছে যে, বয়স ওর প্রতিভাকে স্পর্শ করতে পারেনি। গত ২০ বছর ধরে মেসি আমাদের এমন সব দৃশ্য দেখার অভ্যাস করিয়ে দিয়েছে যে, ওকে খেলতে দেখলে সবাই অনুপ্রাণিত হয়”।
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চাই। দল খুবই খুশি। আমরা অনেক খেলোয়াড়কে খেলার সুযোগ দিতে পেরেছি। আশা করি পরের ম্যাচটাও জিততে পারব, যাতে তৃতীয় গ্রুপ ম্যাচে সবাইকে মাঠে নামানোর সুযোগ পাওয়া যায়”।
অন্য দিকে, এমন একজন কিংবদন্তির বিরুদ্ধে খেলা প্রসঙ্গে সেনেগালের অধিনায়ক আয়সা মেন্দি বলেন, “আর্জেন্টিনা দলে এমন একজন খেলোয়াড় আছে, যে নির্মমভাবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। এই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে সেই খেলোয়াড়ই। সে যত সুযোগ পায়, তার প্রায় সবকটিই জালে জড়িয়ে দেয়। সে হয়তো সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। তার কার্যকারিতা অসাধারণ। আমরা সেটা জানতাম। আমরা যতটা সম্ভব তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনও কিছুই কাজে আসেনি”।




