তাহলে কি আধুনিক ক্রিকেটে একদিনের আন্তর্জাতিক ফরম্যাট সম্পূর্ণ হারিয়ে যাচ্ছে? না, অস্তিত্বের সংকটে পড়ে গেল একদিনের ক্রিকেট। আইপিএল ক্রিকেটকে ভারতের মাটিতে আনার পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন ললিত মোদী। সেই ললিত মোদী হঠাৎই জোর গলায় বলতে শুরু করেছেন, বিশ্ব ক্রিকেটে আইপিএল খেলা সর্বনাশ ডেকে আনছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ৫০ ওভারের একদিনের ক্রিকেটে আর কোনও মূল্যই থাকছে না। ললিত মোদির এই বিস্ফোরক মন্তব্য ক্রিকেট মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেছেন, আইপিএল ক্রিকেট এখনই বাতিল করে দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেছেন, ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ হওয়া উচিত টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে কেন্দ্র করে। টেস্ট ক্রিকেটে চিরাচরিত ঐতিহ্য এবং ২০ ওভারের ক্রিকেটে দুরন্ত খেলা দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তাই এই মুহূর্তে একদিনের ক্রিকেট সেইভাবে মন কাড়তে পারছে না। এমনকি টেস্ট ক্রিকেটে জনপ্রিয়তা বজায় রাখতে এই দীর্ঘ ফরম্যাটকে আরও বেশি দিন-রাতের ম্যাচে সংগঠিত করা প্রয়োজন রয়েছে।
Advertisement
যে সময়টা ললিত মোদী এইরকম মন্তব্য করলেন, তখন ২০২৭ সালে একদিনের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে পরিসংখ্যান অন্য কথা বলছে। ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় দল যেখানে মাত্র পাঁচ মাসে ২২টি ম্যাচ খেলেছে, সেখানে ২০২৭ সালে একদিনের বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি পর্বে ১৮টি একদিনের ম্যাচ খেলবে। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একদিনের খেলা সেই অর্থে কম জনপ্রিয়তা পায়নি।
Advertisement
একদিনের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগেও প্রশ্ন তুলেছিলেন ললিত মোদি। পাশাপাশি ভারতীয় স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন দর্শকদের মানসিকতা এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের রমরমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সেখানে টেস্ট ক্রিকেট বা একদিনের ক্রিকেটে ঐতিহ্যে আঘাত করছে। কেরি প্যাকারের হাত ধরেই ক্রিকেট মাঠে এই ধরনের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ চালু হয়েছিল বিশ্ব ক্রিকেটে। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার ডেভিড পিটারসেনের বক্তব্য, খেলোয়াড়দের ক্রিকেট জীবনকে নষ্ট করে দেওয়ার জন্য দায়ী আইপিএল। এই ক্রিকেট হয়তো আগামী দিনে একদিনের ক্রিকেটের ঐতিহ্যকে পুরোপুরি ম্লান করে দেবে।
Advertisement



