কলম্বো টেস্টে ভারতের জয়ের আশা ক্রমশ ক্ষীণ করে দিচ্ছেন শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডার ব্যাটাররা। বুধবার শ্রীলঙ্কাকে ফলোঅন করানোর পর ৭২ ওভারে তাদের ছ’উইকেট ফেলে দিয়েছিলেন ভারতের বোলাররা। কিন্তু বৃহস্পতিবার টেস্টের শেষ দিনে চায়ের বিরতি পর্যন্ত ৬১ ওভার বোলিং করে দুই উইকেটের বেশি ফেলতে পারেনি তারা। শ্রীলঙ্কাও ব্যবধান ক্রমশ বাড়াতে বাড়াতে ১৭০ রানে পৌঁছে গিয়েছে। চায়ের বিরতির পরে খেলা শুরু হলে ভারত যদি দ্রুত বাকি দুটি উইকেট ফেলেও দেয়, তা হলেও তারা আর বাকি একটি সেশনে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে বলে মনে হয় না।
বুধবার টেস্টের চতুর্থ দিনের শেষে শ্রীলঙ্কা ভারতের চেয়ে ১৬ রানে এগিয়ে ছিল। হাতে মাত্র চার উইকেট ছিল তাদের। শেষ পর্যন্ত কত রানে এগিয়ে থেকে ইনিংস শেষ করবে তারা, এটাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন ছিল ভারত সেই রান তুলে এই টেস্ট জিততে পারবে কি না। দেখা গেল দ্বিতীয় প্রশ্নটাই সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। শেষ দিনের চা বিরতিতে যখন দুই দলের ক্রিকেটাররা প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটা লাগান, তখন শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের মুখে হাসি। ভারতীয়রা বেশ হতাশ। কারণ, তাঁরা বুঝতে পারছেন অঘটন না ঘটলে হয়তো জয় হাতছাড়া হতে চলেছে তাদের। সিরিজ ২-০-য় জেতা হবে না তাদের।
আরও পড়ুন: রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার বার্ষিক সভা নিয়ে ফের তৈরি হচ্ছে জটিলতা, আদৌ সভা হবে তো?
চায়ের বিরতির পর সোনাল দিনুশা (Sonal Dinusha) সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরই ভারতের জয়ের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়। টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করে ভারতীয় বোলারদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ২৫ বছর বয়সি এই বাঁহাতি ব্যাটার (Sonal Dinusha)। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তাঁর (Sonal Dinusha) সেঞ্চুরিই ভারতকে জয় থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। এই ইনিংসে তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন কেশরা নুয়ান্থা (৪৬)। এই লেখার সময় শ্রীলঙ্কা চারশো ছুঁয়ে ফেলল। শ্রীলঙ্কা এগিয়ে ১৮৭ রানে। বৃষ্টি না নামলে আর ২৯ ওভারের খেলা বাকি। অর্থাৎ, ভারতের এই টেস্ট জয়ের আশা প্রায় নেই বললেই চলে।
প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে ২৯০ রানে অলআউট করে ভারত ২১৩ রানের বিশাল লিড পেয়েছিল। তার আগে ভারত নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৫০৩ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসে ভারতের হয়ে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ৫২ রানে ৩টি এবং মানব সুতার ৮৫ রানে ৩টি উইকেট নেন। সারাংশ জৈন ৬৯ রানে ২টি উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর প্রথম উইকেটের স্বাদ পান। শ্রীলঙ্কার হয়ে সোনাল দিনুশা শতরান করার পরেই তাদের প্রথম ইনিংস শেষ হয়।
আরও পড়ুন: ‘শচীনকে খাটো করিনি’, কোহলিকে এগিয়ে রাখার মন্তব্যে সাফাই ডি ভিলিয়ার্সের
বৃষ্টির আতঙ্ক সামলে প্রতিপক্ষকে ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। মহম্মদ সিরাজের বলে লাহিরু উদারা ৩ রানে আউট হন। জাদেজার বলে ফেরেন কামিল মিশারা (৩২)। শুরুর এই ধাক্কা সামলে নেন পাসিন্দু সূর্যবন্দরা ও কামিন্দু মেন্ডিস। তাঁদের ১১৫ রানের পার্টনারশিপই শ্রীলঙ্কাকে লড়াইয়ের জায়গায় নিয়ে আসে। পাসিন্দু দশটি চার ও একটি ছয় হাঁকিয়ে সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও, একশো থেকে মাত্র আট রান দূরে থাকা অবস্থায় মানব সুথারের বলে স্টাম্পড হয়ে ফিরে যান। অন্যদিকে, কামিন্দু দুটি বাউন্ডারি ও তিনটি ওভার বাউন্ডারি মেরে ৫৫ রান তোলেন।
দেখুন:




