• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 10 October, 2026

আড়াইশো তুলেও হার! ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হারের পর বোলারদেরই বার্তা গম্ভীরের, কী বললেন ভারতের কোচ?

ভারতের এই হারের পরে বোলারদের আরও কার্যকর হওয়ার বার্তা দিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর

আড়াইশো তুলেও হার! ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হারের পর বোলারদেরই বার্তা গম্ভীরের, কী বললেন ভারতের কোচ?

Image: X

২৫০ রানের টার্গেট দিয়েও জয় অধরা! টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটারদের দাপটের দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ছ’উইকেটে হার।  শুক্রবার রাঁচিতে রান তাড়া করতে নেমে ৯ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ক্যারিবিয়ানরা। ভারতের এই হারের পরে বোলারদের আরও কার্যকর হওয়ার বার্তা দিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর (Goutam Gambhir)। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে বড় রান তুলেও কী ভাবে ম্যাচ জিততে হয়, সেই পথ খুঁজে বার করতে হবে ভারতকে।

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে প্রথমে ব্যাট করে ভারত তুলেছিল ৫ উইকেটে ২৪৯ রান। কিন্তু সেই রানও জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। শাই হোপের অপরাজিত ১০২ এবং শেরফেন রাদারফোর্ডের ৮৪ রানের দাপটে ১৮.৩ ওভারেই ২৫০ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের হারের পিছনে শিশির, পিচের চরিত্র কিংবা ক্যাচ ফস্কানোর মতো বিষয়কে অজুহাত হিসেবে খাড়া করতে নারাজ গম্ভীর। বরং প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে দলের ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: বৈভব সূর্যবংশীকে এখনই তারকা মানতে নারাজ কপিল দেব! তিন বছর অপেক্ষার পরামর্শ

ভারতের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভাল হলেও মাঝের ওভারগুলিতে রান তোলার গতি কমিয়ে দিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার রস্টন চেজ। ২৪ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তিনি। তাঁর শিকার অভিষেক শর্মা, ইশান কিষাণ এবং শিবম দুবে।

চেজের বোলিংয়ের প্রশংসা করে গম্ভীর (Goutam Gambhir) বলেন, ‘ম্যাচের প্রেক্ষাপট বিচার করলে ওর বোলিংই ছিল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো এবং ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স। এই পিচে ও যে ভাবে বারবার বোলিংয়ের লাইন বদলেছে, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো বিপজ্জনক দলের বিরুদ্ধে আমাদের রান আটকানোর উপায় খুঁজে বার করতে হবে।’

চেজের সাফল্যের রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভারতের কোচ আরও বলেন, ‘ব্যাটারদের অনুমান করতে বাধ্য করার জন্য বোলিংয়ের লাইন বারবার বদলাতে হয়। একই লাইন ও লেংথে বল করে গেলে ব্যাটারেরা নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। চেজ কখনও ব্যাটারের পায়ের দিকে বল করেছে, কখনও ওয়াইড লাইনে, আবার কখনও ফুল লেংথে বল করেছে। এই ধরনের পিচে বোলিংয়ের বৈচিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ভারতের হারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল ময়ঙ্ক যাদবের ক্যাচ ফস্কানো। সহজ ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাদারফোর্ড হোপের সঙ্গে ১২০ রানের জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত ৮৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ে বড় ভূমিকা নেন তিনি।

তবে এই ক্যাচ ফস্কানোকে হারের কারণ হিসাবে তুলে ধরতে চাননি গম্ভীর। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি কাউকে বা কোনও কিছুকে দোষ দিচ্ছি না। আসল কথা হল, আমরা ২৫০ রান আটকাতে পারিনি। ওরা দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে এবং জয়ের যোগ্য। আমাদের এখনও অনেক কাজ বাকি।’

আরও পড়ুন: সমর্থকদের ক্ষোভের জবাব, আইএফএ-র বিরুদ্ধে তোপ দেগে বিষ্ফোরক পোস্ট আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের

ক্যাচ ফস্কানোর ঘটনা ক্রিকেটে নতুন নয়, ভবিষ্যতেও এমন হবে বলে মনে করেন ভারতের কোচ। তাঁর বক্তব্য, ‘টস আপনার হাতে থাকে না। ক্যাচ ফস্কায়, অতীতেও ফস্কেছে, ভবিষ্যতেও ফস্কাবে। কেউ ইচ্ছা করে ক্যাচ ফেলে না। তাই এর জন্য কাউকে দোষ দেওয়া যায় না।’

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কত রান করলে নিশ্চিন্ত হওয়া যায়, সেই প্রশ্নেরও নির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি গম্ভীর (Goutam Gambhir) । তিনি বলেন, ‘নিরাপদ রান বলতে ঠিক কত, তা আমি জানি না। আমরা ভেবেছিলাম ২৫০ রান ভাল স্কোর। বিশেষ করে শুরুতেই দুটো উইকেট তুলে নেওয়ার পরে আমাদের সেই বিশ্বাস আরও বেড়েছিল। কিন্তু ব্যাট হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যা করেছে, তার কৃতিত্ব ওদের দিতেই হবে।’

হারের পর আইয়ার বলেন, ‘কত রান নিরাপদ হবে, তার কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা যায় না। কারণ, শিশিরের প্রভাব পড়লে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়। ২৪৯ রানও প্রায় দু’ওভার বাকি থাকতে তাড়া করে জিতে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই পিচে ভুল করার সুযোগ ছিল খুবই কম। বলের লাইনে সামান্য এদিক-ওদিক হলেই তা গ্যালারিতে গিয়ে পড়ছিল।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের প্রশংসা করার পাশাপাশি ভারতের প্রথম সারির ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মার অবদানেও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন আইয়ার। তিনি বলেন, ‘ওরা অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। নিজেদের বিভাগে দু’জনেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে। সঞ্জু, অভিষেক এবং মায়াঙ্কের কাছ থেকেও আমরা এ রকমই পারফরম্যান্স দেখতে চাই। ওদের সেই জুটি গড়ে ওঠার পরেই ম্যাচের রাশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকে চলে যায়।’

রাঁচির এই হার ভারতের বোলিং বিভাগকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। বড় রান তোলার ক্ষমতা রয়েছে দলের, কিন্তু সেই রান আগলে রাখার দক্ষতাও যে সমান জরুরি, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন গম্ভীর (Goutam Gambhir) । প্রতিপক্ষের ব্যাটারেরা যখন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক, তখন শুধু গতির উপর নির্ভর না করে লাইন, লেংথ এবং বৈচিত্রের সঠিক প্রয়োগই হতে পারে সাফল্যের চাবিকাঠি।

দেখুন: