বিশ্বকাপে দুরন্ত ছন্দে ফ্রান্স। সেনেগালের পর সোমবার রাতে বৃষ্টি-বিঘ্নিত গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাককেও ৩-০ সহজেই বশ মানালো তারা। এমবাপের জোড়া গোলের সৌজন্যে গ্রুপ ‘আই’ থেকে প্রথম দল হিসেবে নক-আউটের ছাড়পত্র আদায় করে নিলো ‘লে ব্লুজ’রা।
তবে, ফিলাডেলফিয়ায় এদিন ফরাসিদের জন্য লড়াইটা খুব একটা সহজ ছিল না। কারণ, প্রতিপক্ষ ইরাকের পাশাপাশি দিদিয়ের দেশঁর দলকে লড়তে হল প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গেও। তা সত্ত্বেও, দমানো গেল না ফ্রান্সকে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দীর্ঘতম ম্যাচ শেষে তিনপয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ল তারা।
জয়ের লক্ষ্যে এই ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। ৭ মিনিট নাগাদ মাইকেল ওলিসের শট আটকে দেন ইরাকের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা। পরের মিনিটেই সুযোগ নষ্ট করেন কিলিয়ান এমবাপে। অবশেষে ১৪ মিনিট নাগাদ সেই এমবাপের গোলেই এগিয়ে যায় ফ্রান্স। মাইকেল ওলিসের সঙ্গে পাস খেলে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরাল শটে বল জালে জড়ান তিনি।
পিছিয়ে পড়ার পর ইরাকও পালটা আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু, প্রতিআক্রমণ নির্ভর ফুটবলে ফরাসিদের রক্ষণে কোনোরকম চাপ তৈরি করতে পারেনি তারা। যদিও, ২৭ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন আলি আল হামাদি। তাঁর হেড একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পাশাপাশি, খেলার এই অর্ধে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন আয়মান হুসেন। এই সবকিছুর মাঝে প্রথমার্ধে গোল ব্যবধান আর বাড়েনি।
এদিকে, প্রথমার্ধ চলাকালীনই শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। তার মধ্যে রেফারি খেলা চালিয়ে গেলেও বিরতির পর পর আবহাওয়া আরও খারাপ হলে সাময়িকভাবে ম্যাচ বন্ধ রাখতে হয়। ফলে, ১৫ মিনিটের বিরতি বেড়ে হল ১৩১ মিনিটের। দেড় ঘণ্টার ম্যাচ চলল ৪ ঘণ্টা ধরে। আসলে, এবারের বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ৮ মাইলের মধ্যে বজ্রপাত হলে অন্তত ৩০ মিনিট খেলা বন্ধ রাখতে হবে । ফলে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হল প্রায় ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পরে।
খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ৫৪ মিনিটে ইরাকের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে যান এমবাপে। এই ম্যাচে জোড়া গোলের ফলে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজেকে ছুঁয়ে ফেললেন তিনি। এরপর ৬৬ মিনিটে ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে ফরাসিদের হয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন উসমান ডেম্বেলে। এই জয়ের ফলে দু’ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট নিশ্চিত করল ফ্রান্স।




