ডার্বির হতাশা কি এক সপ্তাহেই ভুলে গেল ইস্টবেঙ্গল? মোহনবাগানের কাছে হারের ক্ষত শুকানোর আগেই মাঠে আগুন ঝরাল লাল-হলুদ ব্রিগেড। সেই আগুনে কার্যত অসহায় আত্মসমর্পণ করে ঝলসে গেল সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্স।
শুক্রবার কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপে গ্রুপ ‘এ’-র ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল। এই জয়ে প্রতিযোগিতায় প্রথম তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে নকআউটে ওঠার আশা আরও উজ্জ্বল করে তুলল লাল-হলুদ শিবির।
ম্যাচের নায়ক নিঃসন্দেহে পিভি বিষ্ণু। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে সিআইএসএফ রক্ষণকে কার্যত ছিন্নভিন্ন করে দেন তিনি। জোড়া গোল করেন জেসিন টি.কে। একটি করে গোল করেন জিকসন সিং ও বিপিন সিং। ইস্টবেঙ্গলের আর একটি গোল আসে সিআইএসএফ অধিনায়ক মহম্মদ খালিদের আত্মঘাতী গোলে। সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষের জালে আট বার বল জড়িয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের নজিরও স্পর্শ করল ইস্টবেঙ্গল।
ডার্বির প্রথম একাদশে ছ’টি পরিবর্তন করেন হাবাস। গোলরক্ষক ফুরবা লাচেনপা, হার্দিক ভাট, বিষ্ণু, ড্যানিয়েল রামিরেজ, মহম্মদ বাসিম রশিদ এবং জেসিনকে প্রথম একাদশে নামান তিনি। শুরু থেকেই সেই পরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। বলের দখল, আক্রমণের গতি এবং দুই প্রান্ত দিয়ে ওঠানামা— সব ক্ষেত্রেই সিআইএসএফকে চাপে রাখে লাল-হলুদ।
তবে প্রথমার্ধের বেশ কিছু সময় সিআইএসএফের জমাট রক্ষণ ইস্টবেঙ্গলকে আটকে রাখে। গোলরক্ষক রাজ কুমার মাহাতো একাধিক দুরন্ত সেভ করে দলকে বাঁচান। কিন্তু ৩৮ মিনিটে সেই প্রতিরোধ ভাঙেন বিষ্ণু। এডমন্ড লালরিন্দিকার কাট-ব্যাক থেকে দুর্দান্ত ব্যাকহিল শটে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন তিনি। চার মিনিট পর বিষ্ণুর ক্রস সিআইএসএফ অধিনায়ক খালিদের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে গেলে ব্যবধান বেড়ে হয় ২-০। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়ে ড্যানিয়েল রামিরেজের নিঃস্বার্থ পাস থেকে সহজ ট্যাপ-ইন করে তৃতীয় গোল করেন জিকসন সিং।
বিরতির পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার দু’মিনিটের মধ্যেই সন্দীপ মান্ডির ক্রস থেকে অসাধারণ ওভারহেড কিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন বিষ্ণু। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ৬৪ মিনিটে বিপিন সিং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে পঞ্চম গোল করেন। ছ’মিনিট পর নিখুঁত থ্রু বল থেকে জেসিন ব্যবধান ৬-০ করেন।
শেষ দশ মিনিটে কার্যত ভেঙে পড়ে সিআইএসএফ। জেসিন নিজের দ্বিতীয় গোল করার পর মাত্র দু’মিনিটের ব্যবধানে বিপিনের ক্রস থেকে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বিষ্ণু। স্কোরলাইন তখন ৮-০। শেষ বাঁশি বাজার আগেও আরও গোলের খোঁজে ঝাঁপায় লাল-হলুদ, যদিও আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি।
এই দাপুটে জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দিল না, ডার্বি-হারের ধাক্কা কাটিয়ে দলের আত্মবিশ্বাসও অনেকটাই ফিরিয়ে দিল। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় হার হজম করে ডুরান্ড কাপে বিদায়ের মুখে সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্স।




