ঘরোয়া লিগে পর পর দু’টি ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতে আত্মবিশ্বাসী ছিল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। কিন্তু মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারল না তারা। ওমানের আল-সিব ক্লাবের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার তাদেরই মাঠে গোলশূন্য ড্র করল লাল-হলুদ বাহিনী। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ ডি-তে তিন ম্যাচ খেলে এখনও প্রথম জয়ের মুখ দেখেনি আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল (East Bengal)। তবে এই ম্যাচে রক্ষণে যথেষ্ট শৃঙ্খলা বজায় রেখে প্রথম বার গোল না খাওয়ার নজির গড়ল তারা।
ম্যাচের আগে ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) আত্মবিশ্বাসের যথেষ্ট কারণ ছিল। ইন্ডিয়ান সুপার লিগে চার্চিল ব্রাদার্সকে ৪-০ এবং ইন্টার কাশীকে ৫-১ গোলে হারিয়ে ওমানে খেলতে গিয়েছিল তারা। লক্ষ্য ছিল, ঘরোয়া লিগের সেই দাপট এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এও দেখিয়ে প্রথম জয় তুলে নেওয়া। কিন্তু আল-সিবের মাঠে সেই লক্ষ্য পূরণ হল না।
দলের খেলায় খুশি নন হাবাস (Antonio Lopez Habas)। ম্যাচের পরে ইস্টবেঙ্গল কোচ (Antonio Lopez Habas) বলেন, ‘দলের পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট নই। আমার মনে হয়, ফুটবলাররা ক্লান্ত ছিল। এর চেয়ে অনেক ভাল খেলার ক্ষমতা আমাদের আছে। আজ প্রতিপক্ষ খুব তীব্রতা নিয়ে খেলেছে। ফলে আমাদের কাজ কঠিন হয়ে গিয়েছিল। এক সপ্তাহ ধরে আমরা বাইরে রয়েছি। বার বার যাতায়াতের ধকল আমাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে।’
আরও পড়ুন: পাডিক্কলের ১৯৯, অকিবের আগুনে বোলিং সত্ত্বেও প্রকৃতিই কেড়ে নিল ভারত ‘এ’-র জয়
প্রথমার্ধে দু’দলই গোল করার সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে গোলের মুখ খুলতে পারেনি কেউই। ৩০ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলকে (East Bengal) এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন ডেভিড লালনসাঙ্গা। কিন্তু তাঁর শট আটকে দেন আল-সিবের গোলরক্ষক মুয়াতাসিম আল ওয়াহাইবি।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের জন্য ঝাঁপায় লাল-হলুদ। ৫২ মিনিটে প্রতিপক্ষের অর্ধে বল নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন দানি রামিরেজ। কিন্তু আল-সিবের রক্ষণ তাঁকে আটকে দেয়। পরের মুহূর্তেই বিপিন সিংয়ের শট আটকে দেন আল ওয়াহাইবি।
৬৯ মিনিটে মহম্মদ রশিদের কর্নার থেকে বল পেয়ে ওভারহেড কিকে গোল করার চেষ্টা করেছিলেন পরিবর্ত হিসাবে নামা আকে লোবা। কিন্তু তাঁর শট জালে জড়ায়নি। ৮০ মিনিটে রশিদের বাড়ানো কোণাকুনি পাস থেকে বল পেয়ে গোল লক্ষ্য করে শট নেন বিপিন। এ বারও বাধা হয়ে দাঁড়ান আল-সিবের গোলরক্ষক।
ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) যেমন গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি, তেমনই ম্যাচের শেষ দিকে বিপদে পড়তে পারত তাদের রক্ষণও। একেবারে শেষ মুহূর্তে জাহির আল-আঘবারির শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় আটকে দেন গোলরক্ষক ফুরবা লাচেনপা। তাঁর সেই সেভেই শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট নিশ্চিত হয় লাল-হলুদের।
তবে ঘরের মাঠে ফিরতি ম্যাচ নিয়ে আশাবাদী হাবাস(Antonio Lopez Habas)। তাঁর কথায়, ‘আমি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত, আল-সিবের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে আমরা সতেজ হয়ে ফিরব।’ এই ড্রয়ের পরে গ্রুপ ডি-তে তিন নম্বরেই রয়েছে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। তাদের উপরে রয়েছে ইরাকের আল-শোর্তা এবং জর্ডনের আল-হুসেন। ফলে পরের পর্বে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে পরের ম্যাচগুলিতে ভাল ফল করা জরুরি লাল-হলুদের।
আগামী ৩ নভেম্বর কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফিরতি ম্যাচে আল-সিবের মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। ঘরের মাঠে সেই ম্যাচে শুধু গোলের খরা কাটানো নয়, প্রথম জয় তুলে নেওয়াই লক্ষ্য হবে হাবাসের দলের।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/KWJSYUkvG6M?si=iJxowDowM-r2qPeo” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>