মাঝমাঠ আক্রমণে শক্তি বাড়াতে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট দলে নিল দেজান দ্রাজিচকে। ভারতে গত দুবছর ধরে দুর্দান্ত খেলা এই সার্বিয়ান ফুটবলারের সঙ্গে সবুজ মেরুনের চুক্তি দু’বছরের।
বুধবারই শহরে পা রাখছেন তিনি। মূলত অ্যাটাকিং মিডিও হিসাবে খেললেও প্রয়োজনে লেফট উইং-এও খেলতে পারেন এই ৩০ বছর বয়সি ফুটবলার। মাঝমাঠ থেকে গোলমুখী আক্রমণ তৈরি করা ও গোলের পাস বাড়ানোর পাশাপাশি ফুটবলার জীবনে প্রচুর গোলও করেছেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল ফিগেইরার সঙ্গে মাঝমাঠে দ্রাজিচের জুটি এবার মোহনবাগান মাঝমাঠের বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা ছাড়াও সার্বিয়ান সুপার লিগ এবং লা লিগায় সুনামের সঙ্গে খেলার পর গত দুবছর খেলেছেন এফ সি গোয়ায়। গত বছর ইন্ডিয়ান সুপার লিগে ছ’টি গোল করা ছাড়াও দুটি গোলের পাস বাড়িয়েছেন দ্রাজিচ। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর দ্রাজিচ ক্লাব মিডিয়াকে বলেন, ‘মোহনবাগান এশিয়ার অন্যতম বড় ক্লাব। ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং পরম্পরার পাশাপাশি এই ক্লাবের সঙ্গে রয়েছে বিশাল সদস্য-সমর্থক। তাই যখন ক্লাব ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে প্রথম প্রস্তাব আসে তখন সিদ্ধান্ত নিতে এক মুহূর্ত দেরি করিনি।
কারন, এই ক্লাব দলই তৈরি করে ট্রফি পাওয়ার জন্য। জেতার জন্য। আমি মনে করি আমার মানসিকতার সঙ্গে যা খাপ খায়। আমি এরকম ক্লাবে খেলে নিজেকে প্রমান করতে ভালোবাসি’।
তিনি আরো বলেন, ‘মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এবার যথেষ্ট শক্তিশালী, ব্যালান্সড এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দল তৈরি করেছে। এই দলের বিরুদ্ধে আমি খেলেছি। আমি জানি এই দল কী মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে। আমার মনে হয় যে কোনও প্রতিযোগিতায় আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মানসিকতা নিয়েই নামতে পারব’।
ডার্বি নিয়ে রোমাঞ্চিত সার্বিয়ান বলেন, ‘ভারতে আসার আগে থেকেই কলকাতা ডার্বি সম্পর্কে শুনেছি। এশিয়ার অন্যতম সেরা ডার্বি এটি। আইএসএল খেলার সময় দেখেছি এই ম্যাচ নিয়ে ক্লাব সমর্থকদের আবেগ এবং উন্মাদনা থাকে। এ এক বিশেষ অভিজ্ঞতা হবে। যে কোনো ফুটবলারের কাছেই স্বপ্ন থাকে এরকম ম্যাচ খেলার। আমিও এই উত্তেজনা উপভোগ করতে চাই। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট গত কয়েকবছরে দেখিয়েছে কীভাবে জয়ের মানসিকতা তৈরি করতে হয়। আমি চেষ্টা করব সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে’।
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে দ্রাজিচ বলেন, ‘লেফট উইং আমার ফেভারিট জায়গা। সেখান থেকে ভিতরে ঢুকে গোলের বল বাড়াতে আমার ভাল লাগে। তবে অ্যাটাকে যে কোনও পজিসনে আমি খেলতে ভালোবাসি। আমার সবসময়ই লক্ষ্য থাকে দলকে সাহায্য করা। সেটা করাই আমার কাজ হবে। তা যে পজিসনেই খেলি’।
অন্যদিকে, তিন বছরের চুক্তিতে সবুজ মেরুনে রোগ দিলেন অ্যালেক্স সাজি-ও।
রক্ষণের শক্তি বাড়াতে মোহনবাগান দলে নিয়েছে অ্যালেক্সকে। ভারতের যুব দলের অন্যতম সদস্য কেরলের ফুটবলারটি সেন্টার ব্যাক পজিসনে খেলে ইতিমধ্যেই সুনাম কুড়িয়েছেন।
গতবছর স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির হয়ে খেলেছেন ২৬ বছরের সাজি। এর আগে তাঁর খেলার অভিজ্ঞতা আছে গোকুলম কেরালা, কেরল ব্লাস্টার্স, নর্থ ইস্ট ইউনাউটেডের মতো নামী ক্লাবে। মূলত দীর্ঘমেয়াদী দল গঠনের কথা ভেবেই তাঁর সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি করেছে সবুজ মেরুন ম্যানেজমেন্ট। ছয় ফুট দু ইঞ্চি উচ্চতা হওয়ায় এরিয়াল বল দখলের লড়াইয়ে সবসময়ই এগিয়ে থাকেন সাজি।
ডুরান্ড কাপের প্রস্তুতির জন্য কাল সোমবারই শহরে চলে আসছেন নবাগত এই ফুটবলার। চুক্তি সইয়ের পর অ্যালেক্স সাজি বলেন,
‘আমি এবং আমার পরিবার গর্বিত যে এরকম একটা ক্লাব খেলার সুযোগ পেয়েছি। অনুশীলনে নামার জন্য এবং খেলার জন্য মুখিয়ে আছি।
মোহনবাগানের এবারের দল আরও শক্তিশালী। গতবারের দলের সঙ্গে আরও কিছু অভিজ্ঞ ফুটবলার যোগ দিয়েছে। কোচ পানোসের নেতৃত্বে আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে মাঠে নামব এবার। প্রতিটি ম্যাচে জিততেই মাঠে নামব এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। নতুন মরসুমের কথা ভেবে আমি এখন থেকেই তাই উত্তেজিত ও রোমাঞ্চিত’।




