• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 15 June, 2026

বিশ্বকাপের শুরুতেই জার্মানির গোল-বন্যা, অভিষেকেই হৃদয় জিতল কুরাসাও

জার্মানির হয়ে কাই হাভার্টজ ছিলেন অন্যতম উজ্জ্বল তারকা

বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল কুরাসাও। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের এই দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এটি ছিল এক স্মরণীয় দিন। তবে দিনটা স্মরণীয় হলেও ম্যাচের স্কোরটা নিশ্চয়ই মনে রাখতে চাইবেন না সে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। কারণ, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি তারা। গ্রুপ ‘ই’-এর ম্যাচে জার্মানি ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেয় বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কুরাসাওকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। ফেলিক্স এনমেচা গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। কিন্তু এরপরই ঘটে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা অঘটন। লিভানো কোমেনেন্সিয়া গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান এবং সেটিই ছিল বিশ্বকাপে কুরাসাওয়ের ইতিহাসের প্রথম গোল। গোল হতেই গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো কুরাসাও সমর্থক উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।

তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। জুলিয়ান নাগেলসমানের শিষ্যরা দ্রুত নিজেদের ছন্দে ফিরে আসে। কাই হাভার্টজ, জামাল মুসিয়ালা, ডেনিজ উনদাভ, নিকো স্লতারবেখ এবং নাথানিয়েল ব্রাউনের গোলের সুবাদে একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে কুরাসাও। বিশেষ করে বিরতির আগে ও পরে জার্মানির ধারাবাহিক আক্রমণ ম্যাচের রাশ পুরোপুরি তাদের হাতে এনে দেয়।

জার্মানির হয়ে কাই হাভার্টজ ছিলেন অন্যতম উজ্জ্বল তারকা। তিনি দুটি গোল করার পাশাপাশি আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও পান আর্সেনাল তারকা।

স্কোরলাইন যতই একপেশে হোক, কুরাসাওয়ের গল্পটি কিন্তু অনুপ্রেরণাদায়ক। মাত্র প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার জনসংখ্যার দেশটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। তাদের কোচ, ৭৮ বছর বয়সী ডাচ কিংবদন্তি ডিক অ্যাডভোকাট ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীতের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন।

ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, জার্মানির মতো শক্তিশালী দলের কাছে হারলেও তাঁর খেলোয়াড়দের লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই এবং বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতেও চমক দেখানোর সামর্থ্য রয়েছে তাদের।

এই বড় জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান দুর্দান্তভাবে শুরু করল জার্মানি। শেষ দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার হতাশা ভুলে পঞ্চম খেতাবের লক্ষ্যে এগোতে চাইছে তারা। অন্যদিকে, হার সত্ত্বেও কুরাসাও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে, আর তাদের প্রথম বিশ্বকাপ গোলটি সে দেশের ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ম্যাচের পরে তাদের কোচ অ্যাডভোকাট বলেন, ‘জাতীয় সঙ্গীতের সময় আবেগ ধরে রাখতে পারিনি। এই দেশের কাছে এ এক অসাধারণ মুহূর্ত। জার্মানির তুলনায় আমরা নেহাতই একটা ছোট শহর। আমরা যে এখানে খেলছি, এটাই আমাদের কাছে বিশাল ব্যাপার।’

জার্মানির কোচ নাগেলসমান বলেন, ‘প্রথম জলপানের বিরতিটাই খুব কাজে লেগেছে আমাদের। সত্যিই কুরাসাও শুরুর দিকে আমাদের অবাক করে দিয়েছিল। ড্রিঙ্কস ব্রেকে ছেলেদের সম্বিৎ ফেরাই।’ দলের অন্যতম গোলদাতা ব্রাউন বলেন, ‘আমাদের বিস্ময়ের ঘোর কাটতেই নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসি।’

তবে এত বড় ব্যবধানে হার অপ্রত্যাশিত নয় বলেই জানান অ্যাডভোকাট। বলেন, ‘জার্মানি আমাদের চেয়ে অনেক ভাল দল, তা তো জানা কথাই। তাই এই ব্যবধান অপ্রত্যাশিত নয়। তবে আমরা যদি সমানে ডিফেন্স করে যেতাম, তা হলে হয়তো আরও বড় ব্যবধানে হারতাম। সে জন্যই পাল্টা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিই’। এর পর জার্মানির ম্যাচ ২১ জুন আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে, টরন্টোয় ও ২৬ জুন ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে, নিউ জার্সিতে।