• facebook
  • twitter
Wednesday, 4 February, 2026

ইডেনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের খেলা দেখা নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই ক্রিকেটপ্রেমীদের

কোনও কোনও ক্লাবের প্রতিনিধিরা ফোনে জানাচ্ছেন কারও টিকিট লাগবে কিনা। কিন্তু সেখানেও কোনও উত্তর নেই। তবুও ক্রিকেট খেলা হবে ইডেনে।

আর দু’দিন বাদেই ইডেন উদ্যানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের খেলায় মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং স্কটল্যান্ড। তার একদিন বাদে আবার স্কটল্যান্ডের সঙ্গে মাঠে নামবে ইতালি। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই খেলাকে ঘিরে ইডেন উদ্যানে কোনও উন্মাদনা নেই। এমনকি কোনও কর্মকর্তার কাছে কেউ সেইভাবে একটা সৌজন্য কার্ড চাইছেন না। প্রচুর টিকিট পড়ে রয়েছে। কেনার লোক নেই। দাম কিন্তু ১০০ টাকা হলেও খেলা দেখার ইচ্ছে নেই কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীদের। ক্লাবগুলির যে টিকিটের বরাদ্দ থাকে, সেই টিকিট সংগ্রহ করার জন্য সেইভাবে কেউ টাকাই জমা দেয়নি। তবুও ইডেন খেলা হবে। এককথায় বলা যায়, প্রায় দর্শকহীন ইডেন উদ্যানে তিনটি দেশ খেলবে। যে ইডেন উদ্যানে ক্রিকেট নিয়ে যে উন্মাদনার পারদ উচ্চমার্গে পৌঁছে যায়, তার কোনও হদিশই নেই।

কোনও কোনও ক্লাবের প্রতিনিধিরা ফোনে জানাচ্ছেন কারও টিকিট লাগবে কিনা। কিন্তু সেখানেও কোনও উত্তর নেই। তবুও ক্রিকেট খেলা হবে ইডেনে। ভাবতে অবাক লাগছে ইডেনে এমন চরিত্র হতে পারে। ক্লাবহাউস চত্বরে কিছু মানুষের আনাগোনা থাকলেও সেইভাবে কারও উৎসাহ চোখে পড়ছে না। রাতারাতি যাঁরা কর্মকর্তা হয়েছেন, তাঁরা ভাবতে শুরু করেছেন, তাঁদের প্রিয় আপনজনদের হাতে কিছু টিকিট তুলে দেবেন। কিন্তু সেই আপনজনরাও নীরবতা পালন করছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে গুরুত্ব, তা কোনওভাবেই অনুভব করা যাচ্ছে না ইডেন চত্বরে পৌঁছলে। প্রচুর অর্থ ব্যয় করে ইডেনের পার্শ্ববর্তী মাঠগুলোতে ব্যারিকেড বাঁধা হয়েছে। পুলিশের তৎপরতা থাকবে। হয়তো ঘোড়দৌড় পুলিশও অপেক্ষা করবে। যে দলই খেলুক না কেন, ক্রিকেটারদের প্রত্যাশা থাকবে মাঠে দর্শক আসুক। শেষ মুহূর্তে এমন হতে পারে, কলকাতা ও কাছের এলাকায় যে সমস্ত ক্রিকেট অ্যাকাডেমি আছে, সেই সব অ্যাকাডেমির ছাত্রছাত্রীদের হাতে বিনামূল্যে টিকিট তুলে দেওয়া হবে। গ্যালারিতে তাদের জন্য বিশেষ ‘ক্লোজার’ থাকতে পারে। সেখানে তারা বসে খেলা দেখবেন। পাশাপাশি, তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করা হতে পারে। সত্যিই যদি এই ঘটনা হয়, তাহলে বলতে হবে, সিএবি একটা ভালো প্রয়াস নিয়েছে। শিক্ষার্থী ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপভোগ করতে পারবে। এখন দেখার বিষয়, ঘটনা কতদূর গড়ায়।

Advertisement

সিএবি-র এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এইরকম ঘটনা অতীতে হয়েছে কিনা, তা জানা নেই। বেশ কয়েক বছর আগে এই ইডেন উদ্যানে একদিনের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে দু’টি বিদেশি দল মুখোমুখি হওয়ায় টিকিটের চাহিদা এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল, তা একেবারে কম দামে বিক্রি করার চেষ্টা করেও দর্শক খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি অনেকে বলতে শুরু করেছিলেন, বিনা পয়সায় টিকিটটা নিয়ে যান। তাও সম্ভব হয়নি। তাই কালোবাজারির কথা এখন তো আর প্রশ্নই ওঠে না। সেই কারণে পুলিশের কোনও নজর থাকবে না, কারা টিকিট কালোবাজারে বিক্রি করছেন। তাঁরাও হতাশা প্রকাশ করছেন হয়তো। এমনই অবস্থা হবে কেউ ভাবতেই পারছেন না। বাংলাদেশ আসার কথা ছিল। কিন্তু ভারতের মাটিতে তারা খেলবে না বলে জানিয়ে দেওয়ার পরে সিএবি-র কর্মাকর্তাদের মাথায় হাত পড়ে যায়। যেহেতু আইসিসি –র নির্দিষ্ট করা দু’টি ম্যাচ কলকাতার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই দু’টি ম্যাচে খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। বাংলাদেশ সরে যাওয়াতে ক্রিকেটপ্রেমীদের কোনও আগ্রহই চোখে পড়ছে না। বুধবার অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, বিসিসিআই যদি ইডেন উদ্যানে ভারতের একটা ম্যাচ ফেলতে পারেত, তাহলে ইডেনের চেহারার পরিবর্তন হয়ে যেত। আইসিসি-র সভাপতি জয় শাহ যদি চেষ্টা করতেন, তাহলে ইডেন উদ্যানে দুটো ভালো ম্যাচ বরাদ্দ করতে পারতেন। তা হল না। বুধবার দেখা গেল উইকেট তৈরি করার জন্য রোলার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মালিবন্ধুরা। চারদিকে শুনশান। ক্লাব হাউসের সামনে আলো দিয়ে সাজানো হলেও মানুষের তৎপরতা কোথায়?

Advertisement

ছবি: বিশ্বজিৎ ঘোষাল

Advertisement