ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার খবর। দলের অন্যতম সেরা তারকা নেইমার জুনিয়র গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ফের তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় বিশ্বকাপের শুরুতে তাঁকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইছে না ব্রাজিল শিবির। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনসেলোত্তি এবং দলের মেডিক্যাল স্টাফ নেইমারের শারীরিক অবস্থা ভাল ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে চোট সারিয়ে দলে ফিরলেও এখনও তিনি একশোভাগ ফিট নন বলে জানা গিয়েছে। সেই কারণেই গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে তাঁকে মাঠে নামানোর বিষয়ে খুবই সাবধান পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ব্রাজিল শিবির সূত্রের খবর, তাদের মূল লক্ষ্য, টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বের জন্য নেইমারকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা। তাই প্রয়োজন না হলে তাঁকে গ্রুপ পর্বে খেলানোর ঝুঁকি নেওয়া হবে না। কোচিং স্টাফ মনে করছে, দীর্ঘ টুর্নামেন্টে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে সুস্থ রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৩৪ বছর বয়সী নেইমার গত কয়েক বছরে একাধিকবার চোটে ভুগেছেন। হাঁটু এবং পেশির সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। যদিও সাম্প্রতিককালে তিনি ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরেছেন, তবু টানা ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় তিনি পৌঁছেছেন কি না, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্বকাপে ব্রাজিল ইতিমধ্যেই তাদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করেছে। সেই ম্যাচে নেইমারকে মাঠে দেখা যায়নি। তাঁর অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের দায়িত্ব সামলান ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রদ্রিগোরা। তবে সমর্থকদের আশা, টুর্নামেন্ট যত এগোবে, নেইমারও তত দ্রুত পুরোপুরি ফিট হয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচ হাইতির বিরুদ্ধে। এর পর গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হতে হবে স্কটল্যান্ডের। এই দুই ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সই অনেকটা নির্ধারণ করবে নেইমারকে কত দ্রুত মাঠে নামানোর প্রয়োজন পড়বে। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের খেতাব জয়ের স্বপ্নের সঙ্গে নেইমারের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই তাঁর ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা এখন সেলিসাও সমর্থকদের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তাহলে হয়তো গ্রুপ পর্বের পরেই বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবল তারকাকে।




