বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল। অথচ মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স, গতি, ড্রিবলিং ও সুযোগ তৈরি করার ক্ষমতা স্পেনের আক্রমণের অন্যতম বড় অস্ত্র। তবে গোলসংখ্যা নিয়ে কোনও উদ্বেগই নেই লামিনে ইয়ামালের। তাঁর কাছে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের চেয়ে দলের সাফল্যই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে স্পেন যখন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে মহারণের অপেক্ষায়, তখন ১৮ বছর বয়সি এই তারকা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপ জিততে পারলে আর কিছু চাই না। নিজে গোল করতে না পারলেও তিনি তা সহজেই মেনে নেবেন।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার গোলের দেখা পেয়েছেন ইয়ামাল। যেখানে এমবাপ্পে, মেসি, হালান্ড, কেন-রা প্রায় প্রতি ম্যাচে গোল পাচ্ছে, সেখানে তাঁর গোর্খা তাঁর ভক্তদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
কিন্তু ইয়ামাল নিজে উদ্বিগ্ন নন। তিনি মনে করেন, একজন উইঙ্গারের কাজ শুধু গোল করা নয়, দলের আক্রমণকে সচল রাখা এবং সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ইয়ামাল বলেন, ‘আমি যদি একটা গোল করেও দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারি, তাহলে সেটাই যথেষ্ট। এমনকী, আমি যদি আর কোনও গোলই না করি, তবুও কোনও ব্যাপার না। স্পেন বিশ্বকাপ জিতুক। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।’
বিশ্বকাপ জুড়ে শুধু ইয়ামাল নয়, আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তাঁর ছোট ভাইও। প্রতিটি ম্যাচের পর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো তাঁকে মানসিকভাবে অনেকটা স্বস্তি দেয় বলেও জানিয়েছেন বার্সেলোনার এই তরুণ।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই সব সময় আমাকে আনন্দ দেয়। ওর সঙ্গে সময় কাটালে আমি ফুটবল থেকে কিছুটা দূরে থাকতে পারি। এত বড় একটা টুর্নামেন্টে সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়ামালের বক্তব্য প্রমাণ করে মানসিক ভাবে তিনি কতটা পরিণত। আধুনিক ফুটবলে যেখানে ব্যক্তিগত গোল, রেকর্ড এবং পুরস্কারের দিকেই অনেকের নজর থাকে, সেখানে ইয়ামাল দলের সাফল্যকে নিজের ব্যক্তিগত কৃতিত্বের অনেক ওপরে রাখছেন। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এই মানসিকতাই স্পেনের ড্রেসিংরুমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালেও ইয়ামাল প্রতিপক্ষের রক্ষণকে একাধিকবার সমস্যায় ফেলেছেন। যদিও গোল করতে পারেননি, তবুও তাঁর তৈরি করা চাপ ও আক্রমণ স্পেনের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এখন সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সেই একই মেজাজ বজায় রাখতে চাইবে লুই দে লা ফুয়েন্তের দল। সেমিফাইনালের আগে ইয়ামালের বার্তা তাই স্পষ্ট—ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দেশের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেতাবই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।




