শুভেন্দুকে রক্ষাকবচ দেওয়া বিচারপতি তপশিলিদের সংরক্ষণ কেড়েছেন: অভিষেক

Written by SNS May 24, 2024 12:10 pm

নিজস্ব প্রতিনিধি – “আমি কথা দিয়ে কথা রাখার ছেলে”, সর্বদাই বলতে শোনা যায় তৃণমূল যুবরাজ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ সম্প্রতি নিজ গড় ডায়মন্ড হারবারে রোডশো করে তিনি বলেছিলেন ২৩ মে থেকে যুবরাজ নিজ কর্মভূমি অর্থাৎ দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেই তিনি থাকবেন৷ নিজ বক্তব্যে অটুট অভিষেক৷ সেই মতো বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেই তিনটি জনসভা করেন তিনি৷ প্রথমে যাদবপুরের প্রার্থী সায়নী ঘোষের সমর্থনে ভাঙড়ে এবং তারপর মথুরাপুরের প্রার্থী বাপি হালদারের সমর্থনে মগরাহাট পশ্চিমে আয়োজিত জোড়া জনসভা থেকেই অভিষেক নিজ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে দফায় দফায় আক্রমণ শানান বিজেপিকে৷ উল্লেখ্য, ভাঙ্গরের সভায় অভিষেকের সাথে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শওকত মোল্লা৷ মগরাহাট থেকে বক্তব্যের শুরুতেই অভিষেক বলেন, “আমি আমার কর্মভূমি দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঢুকে গেছি৷ ভোট হওয়া না পর্যন্ত আগামী ৭ দিন আমি এখানেই থাকবো৷

যে বুথে যেতে বলবেন যাবো, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবো৷” কোন কেন্দ্রে কত ভোটের ব্যবধানে জিতবেন তার ভবিষ্যতবাণীও শুনিয়ে দেন অভিষেক৷ যাদবপুর লোকসভার অন্তর্গত কেবল ভাঙ্গর থেকেই দেড় লক্ষের ব্যবধানে তৃণমূলকে জেতানোর আর্জি অভিষেকের৷ পাশাপাশি মথুরাপুর লোকসভার অন্তর্গত মগরাহাট পশ্চিম থেকে ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধান প্রার্থনা করেন এবং মথুরাপুর লোকসভা থেকে ৩ লক্ষ ব্যবধানের আর্জি জানান অভিষেক৷ আত্মবিশ্বাসী অভিষেক আরও বলেন, “ডায়মন্ড হারবারে জয়ের ব্যবধান আমি ৪ লক্ষের বেশি নিয়ে যাবো, কথা দিচ্ছি৷” এরপরই মগরাহাট থেকে দিয়েছেন মঙ্গলবার্তা৷ তিনি বলেন, “তৃণমূল ক্ষমতায় আসবে আর এই জেলার বাকি তিন লোকসভা কেন্দ্রে অর্থাৎ মথুরাপুর, জয়নগর, যাদবপুরে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ প্রথম বাস্তবায়িত করে দেখাবো, এটা আমার গ্যারান্টি৷”
ভাঙড় থেকেও প্রতিশ্রুতি যুবরাজের৷ তিনি বলেন, “আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন ৩০ কিলোমিটার রাস্তা ৫০ কোটি টাকার খরচা করে তার সূচনা করে আমরা করে দিয়ে যাবো, কথা দিয়ে গেলাম৷”

এদিন দুই জনসভা থেকেই কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের তীব্র সমালোচনা করে অভিষেক বলেন, “যে বিচারপতি শুভেন্দু অধিকারীকে রক্ষাকবচ দিয়েছিলেন, সেই বিচারপতির বেঞ্চই আমার সংখ্যালঘু এবং তপশিলি ভাই বোনেদের সংরক্ষণ কেড়ে নিয়েছে৷ এটা কাকতালীয় নয়! আমি কথা দিচ্ছি, যতদিন আমরা এই মাটিতে আছি, বৈষম্য এবং বিভাজনের রাজনীতি করতে দেবো না৷” এরপরই গর্জে উঠে অভিষেক বলেন, “সিএএ, এনআরসিও আমরা করতে দেবো না৷” এদিন ভাঙ্গরে দাঁড়িয়ে নাম না করে ভাঙ্গরের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে আক্রমণ অভিষেকের৷ আইএসএফ কে ‘বিজেপির বি টিম’ বলেও কটাক্ষ৷ তিনি বলেন, “মমতা বন্দোপাধ্যায় যখন সিএএ-এর বিরুদ্ধে আন্দোলন ঘোষণা করেছেন তখন ভাঙরের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে থেকেছেন৷ শুভেন্দু অধিকারী যখন বলেছেন বুলডোজার দিয়ে বাংলার সংখ্যালঘুদের বাড়ি ভেঙে দেবো তখন এখানের বিধায়ক বলেছেন, বিরোধী দলনেতা ভালো কাজ করছে৷” তাঁর আরও সংযোজন, “এখানের বিধায়ককে কখনও বিজেপির বিরুদ্ধাচারণ করতে দেখবেন না কারণ তাঁর টিকিটা দিল্লিতে বাধা৷” এরপরই বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্বদের অভিষেক ছুঁড়ে দিয়েছেন চ্যালেঞ্জ৷ অভিষেক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তো একাধিক বার আসবেন এই জেলায় সপ্তম দফার নির্বাচনের আগে৷ আমি বলবো, বুকের পাটা থাকলে আপনি বা বিজেপির যেকোনো সর্বভারতীয় নেতা এই ভোজের হাট ফুটবল ময়দানে একটা মিটিং করবেন৷” বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্বদের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে লড়াইয়ে নামার চ্যালেঞ্জ অভিষেকের৷ তিনি বলেন, “দক্ষিণ ২৪ পরগনার যেকোনো ব্লকে একটা মঞ্চ বাঁধুন৷ একদিকে আপনি আপনার রিপোর্ট কার্ড নিয়ে থাকবেন, অন্যদিকে আমি থাকবো৷ মাঠের বাইরে করে দিতে না পারলে আমার নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়৷”

বিজেপি সরকারের বিদায় আসন্ন, দাবি অভিষেকের৷ নিজ বক্তব্যের সমর্থনে তিনি বলেন, “এই বাংলা বিরোধী বিজেপি সরকারের বিদায় আসন্ন, কেউ আটকাতে পারবে না৷ ১লা জুন যখন ভোট দিতে যাবেন, মাথায় রাখবেন তখন থেকে কেন্দ্রের সরকারের মেয়াদ ৩ দিনের৷ “দৃঢ় কণ্ঠে যুবরাজ বলেন, “২০১৪, ২০১৬, ২০১৯ এবং ২০২১ -এ পরপর হারিয়েছি, ২০২৪ এর ১লা জুনও ভোকাট্টা করে মাঠের বাইরে বার করবো৷ কথা দিয়ে গেলাম৷ “জনসাধারণকে উপদেশ দিয়ে তাঁর আরও সংযোজন, “এখানে তিন নম্বর বোতাম টিপবেন আর দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির চেয়ারের পায়া খুলে পড়বে৷ “নিজ কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপিকে৷ কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “যার প্রার্থী খুঁজতে এক মাস লাগে, তাঁর ২০০০ বুথে পোলিং এজেন্ট খুঁজতে কতদিন লাগবে? তৃণমূলের এজেন্ট কি আর বসতে পারে তাঁদের হয়ে?” এরপরই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আক্রমণ করে যুবরাজ বলেন, “প্রত্যেক নির্বাচনেই কেন্দ্রীয় বাহিনী আসে৷ কিন্ত্ত কি করতে পেরেছে? যত কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাপাদাপি বাড়বে ততো জোড়াফুলের ওপর মানুষের জনসমর্থন বাড়বে৷” উল্লেখ্য, এদিনের দুই জনসভাতেই তৈরী হয় জনস্রোত৷ ভাঙ্গর থেকে স্মৃতিচারণা যুবরাজের৷ মমতা বন্দোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াইটা যাদবপুরের মাটি থেকেই শুরু হয়েছিল, দাবি অভিষেকের৷