• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 25 September, 2026

সবুজ সঙ্কেত মিললেই তিন মাসে টেট! প্রস্তুত প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ

সরকারি অনুমতি মিললেই তিন মাসের মধ্যে প্রাথমিকের শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা বা টেট আয়োজন করতে প্রস্তুত পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক

সবুজ সঙ্কেত মিললেই তিন মাসে টেট! প্রস্তুত প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ

সরকারি অনুমতি মিললেই তিন মাসের মধ্যে প্রাথমিকের শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা বা টেট আয়োজন করতে প্রস্তুত পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, সম্প্রতি স্কুলশিক্ষা দফতরকে এ কথা জানিয়ে দিয়েছে পর্ষদ।

গত বছর একটি মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সমস্ত প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষককে শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা বা টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে যাঁদের অবসরের সময়সীমা পাঁচ বছর বা তার কম, সেই প্রবীণ শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ছাড়ের কথা বলা হয়েছিল। পরে এই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৮ করা হয়।

এর মধ্যেই স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়, কত দিনের মধ্যে তারা টেট আয়োজন করতে পারবে। সেই চিঠির জবাবেই পর্ষদ নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে বলে খবর।

তবে টেট বাধ্যতামূলক হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। শিক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯ কার্যকর হয় ২০১০ সালে। ওই আইনের ভিত্তিতে শিক্ষকতার যোগ্যতা সংক্রান্ত বিধি তৈরি করে জাতীয় শিক্ষক শিক্ষা পরিষদ। পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের জুলাই থেকে শিক্ষকদের যোগ্যতা সংক্রান্ত নতুন নিয়ম কার্যকর হয়, যেখানে টেট পাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

শিক্ষকদের একাংশের যুক্তি, ২০১১ সালের আগে যাঁরা শিক্ষক পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ের নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। এই শিক্ষকদের টেটের বাধ্যবাধকতা থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ২০ লক্ষ শিক্ষক রয়েছেন, যাঁরা এখনও টেট উত্তীর্ণ নন। পশ্চিমবঙ্গে সেই সংখ্যা ৯০ হাজারেরও বেশি। শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯ এবং জাতীয় শিক্ষক শিক্ষা পরিষদের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার ক্ষেত্রে টেট পাশ ন্যূনতম এবং বাধ্যতামূলক যোগ্যতা। সুপ্রিম কোর্টও টেটকে বাধ্যতামূলক যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে বিতর্কের মূল জায়গা ২০১১ সালের আগে নিযুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে।

এই সমস্যা থেকে রেহাই চেয়ে রাজ্য সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়েছিল। পাশাপাশি কেন্দ্রের কাছে সংসদে অধ্যাদেশ এনে আইন সংশোধনের দাবিও জানিয়েছিলেন বিভিন্ন মতাদর্শের শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তবে এখনও পর্যন্ত সেই বিষয়ে কোনও সমাধান হয়নি।

এরই মধ্যে টেট আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে ফের সক্রিয় হয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতর। সম্প্রতি পর্ষদ এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় এবং প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। সূত্রের খবর, জবাবে পর্ষদ জানিয়েছে, তারা পরীক্ষা আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। দফতরের সবুজ সঙ্কেত পেলেই তিন মাসের মধ্যে টেট নেওয়া সম্ভব।

অন্য দিকে, বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে, টেট সংক্রান্ত জটিলতা মেটানোর দাবিতে তারা আন্দোলনে নামবে। তাদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন ধর্মেন্দ্র প্রধান রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে এই সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই আশ্বাস কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ তুলে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।