• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 28 September, 2026

পর পর হামলার ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ কুণাল ঘোষ, মামলা দায়েরের অনুমতি মিলল

যদিও কুণাল ঘোষের অভিযোগ, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এই কারণে আদালতের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক

পর পর হামলার ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ কুণাল ঘোষ, মামলা দায়েরের অনুমতি মিলল

Kunal Ghosh-Calcutta High Court Photo-ANI

এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শনিবার শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়িতে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ১৮ ঘণ্টার মধ্যে রবিবার দিনও আবার হামলা চালানো হয় বেলেঘাটার বিধায়কের গাড়িতে। তাঁকে মারধর করা থেকে শুরু করে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য রিভলভার বের করা হয় বলেও অভিযোগ। তাই দ্রুত শুনানির আবেদন করেন তিনি। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়ে দেন, অনেক বিধায়কের মামলা আছে। দ্রুত শুনানি তাই সম্ভব নয়। মামলা ফাইল করুন। তালিকাভুক্ত হলেই শুনানি হবে।

যদিও কুণাল ঘোষের অভিযোগ, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এই কারণে আদালতের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। কুণালের আবেদন, এই ধরনের আক্রমণ যাতে আর না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। হয় তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হোক আর তা না হলে আক্রমণের ঘটনায় পুলিশ পদক্ষেপ করুক। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে এই মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন করেছিলেন কুণাল ঘোষের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য। আইনজীবীর বক্তব্য, তাঁর মক্কেল একজন নির্বাচিত বিধায়ক। সুতরাং জনপ্রতিনিধি হওয়ায় তাঁকে রাস্তায় বের হতে হয়। কিন্তু পর পর দু’দিন তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছে। এতে তাঁর প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই কারণে দ্রুত শুনানির প্রয়োজন।

কুণাল ঘোষের আইনজীবীর সওয়াল শুনে তাঁকে মামলা দায়ের করার অনুমতি দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। কিন্তু এই বিষয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন তিনি গ্রহণ করেননি। বরং ওই আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি জানিয়েছেন, স্বাভাবিক নিয়মেই এই মামলা কলকাতা হাইকোর্টের শুনানির তালিকায় আসবে। পর পর দু’বার বিধায়কের উপর আক্রমণ হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য।

উল্লেখ্য, শনিবার শ্রীরামপুরের কোর্টের মাঠে সভা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেখানে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় কুণালের গাড়িতে হামলা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর গাড়িতে পাথর এবং ডিম ছোঁড়া হয়। এই পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষ শ্রীরামপুরে যেতেই পারেননি। কাচ-ভাঙা গাড়ি নিয়ে কলকাতায় ফেরেন। চলে যান ভবানীভবনে। আর রবিবার বেলেঘাটায় নিজের কেন্দ্রেই আক্রান্ত হন তৃণমূল বিধায়ক। রিভলভার হাতে তাঁকে অনুসরণ করছিলেন কয়েকজন বলে কুণালের অভিযোগ। হাতুড়ি দিয়ে তাঁর গাড়ির কাচ ভাঙা হয়। গাড়ির কাচ লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় পাথর। নারকেলডাঙা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কুণাল ঘোষ।