বিষের শিশিতে পুরনো কলকাতার গল্প, সঙ্গে সিগারেট প্যাকেটের মৌতাত, বিশেষ প্রদর্শনী উত্তর কলকাতায়

Image: SNS

‘বিষ’ শব্দের সঙ্গে একটা রহস্য, গা ছমছমে বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। ‘বিষ’ শুনলেই মনে একটি নিখুঁত মৃত্যুর পরিকল্পনা ভেসে ওঠে। সক্রেটিসের ‘হেমলক বিষ’ পানের কথা আমাদের সকলেরই কম-বেশি জানা আছে। তৎকালীন সমাজ তাঁকে ভয় পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছিল। আদালতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। হেমলক বিষ পান করতে তাঁকে বাধ্য করা হয়েছিল। যুগে যুগেই সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে অনেকেই স্বেচ্ছায় বিষ পান করেছেন। সৃষ্টিকে রক্ষা করতে সমুদ্রমন্থন থেকে ওঠা বিষ পান করে দেবাদিদেব মহাদেব হয়েছিলেন ‘নীলকণ্ঠ’।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: বিপ্লবীদের ধরতে গুপ্তচররা কুঠুরিতে লুকিয়ে থাকত, ক্ষুদিরাম আসতেন এই পুজোয়, জানেন কোন সেই পুজো

আর সাহিত্যে তো বিষের আনাগোনা রয়েছেই। ব্যোমকেশ হোক বা আগাথা ক্রিস্টির রহস্য রোমাঞ্চ গল্প, সেখানে বিষ নিজের আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। পুরনো কলকাতায় ব্যবহৃত বিষের শিশি, সিগারেটের প্যাকেট এবং মদের বোতলের লেবেল নিয়ে শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এক বিশেষ প্রদর্শনী (Kolkata Exhibition)। আজ অর্থাৎ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে এই প্রদর্শনী (Kolkata Exhibition)। চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। শুরু হবে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।


মধু গুপ্ত লেনের জগজ্যোতি গ্রন্থাগার ও অবৈতনিক পাঠাগারে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। শতাব্দী প্রাচীন এই গ্রন্থাগার বাঁচাতে এবং ছোটদের লাইব্রেরিমুখী করাই এই প্রর্দশনীর মূল উদ্দেশ্য।  সংগ্রাহক সৌভিক মুখোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে সাজানো হয়েছে প্রদর্শনীটি।কলকাতায় ব্যবহৃত বিভিন্ন বিষের শিশির সংগ্রহ সেখানে দেখতে পাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে থাকবে ১৯১৮ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে বাজারে প্রচলিত নানা সিগারেটের প্যাকেট এবং মদের বোতলের লেবেলও।

এই প্রদর্শনীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলা সাহিত্যের কিছু পরিচিত চরিত্রও। থাকবে তারানাথ তান্ত্রিকের পছন্দের ‘পাসিং শো’ সিগারেট এবং সেই সময়ের জনপ্রিয় ‘কাঁচি’। পাশাপাশি বর্তমানের পরিচিত কয়েকটি ব্র্যান্ডের পুরনো প্যাকেটও প্রদর্শন করা হবে। ফলে বিষের শিশির পাশেই রাখা থাকবে কলকাতার ধূমপানের বদলে যাওয়া ইতিহাসের কাহিনিও।

তবে প্রদর্শনীর (Kolkata Exhibition) মূল আকর্ষণ শুধু বিষের ভয়াবহতা নয়, বরং সেই সময়ের সামাজিক এবং চিকিৎসা ইতিহাসও। সৌভিক দীর্ঘদিন ধরে পুরনো গুদামঘর ও বিভিন্ন মেলা ঘুরে বিষের শিশি সংগ্রহ করছেন। তাঁর মতে, শিশির ভিতরে কী ধরনের বিষ ছিল, তার পাশাপাশি শিশিটিও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এক সময়ে বিষ ব্যবহারের পর শিশি ভেঙে ফেলার রীতি ছিল। ফলে অক্ষত অবস্থায় এমন শিশি খুঁজে পাওয়া এখন যথেষ্ট কষ্টসাধ্য কাজ। সংগ্রহের বেশ কিছু শিশি ইতিমধ্যেই অ্যান্টিক হিসেবে বিবেচিত।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: প্রতিমার সৌন্দর্য বাড়ায় চালচিত্র

মনের বিষ বা শব্দের বিষ পুরোপুরি নিরাময় না করা গেলেও কিছু এমন বিষও আছে যা প্রাণঘাতী নয়। কিছু বিষ রয়েছে, যেগুলি নির্দিষ্ট মাত্রায় ও নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত প্রয়োজনে ব্যবহৃত হত। এই প্রদর্শনটি শুধুমাত্র বিষ এবং বিষপ্রয়োগের অপরাধকাহিনি নয়। এর মধ্যে দিয়ে উঠে আসবে পুরনো কলকাতার চিকিৎসা, ওষুধ, ধূমপান এবং অপরাধজগতের এক বিস্মৃত সময়ের ইতিহাস।

দেখুন: সোনার গণেশ, ঝলমলে ৩.৮৩ লক্ষ ডায়মন্ড! গণেশ চতুর্থীতে নজর কাড়ল হায়দরাবাদ