নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গোটা দেশ উত্তাল। তা নিয়ে আন্দোলনে নেমে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরা। তারপরও থেকে গিয়েছে একাধিক প্রশ্ন। যার জন্য কেন্দ্রীয সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে নয়া বিল আনছে সংসদে। তবে সোমবার সকাল থেকেই অচলাবস্থা শুরু হয়েছে সংসদে। যার জন্য দায়ী বিরোধীরা। এই আবহে এবার রাজ্যের প্রেক্ষিতে কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। যা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।
এদিকে কেন্দ্রে নয়া শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। তিনি দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। তারপরই নয়া বিল পেশ করা হয়েছে সংসদে। সকাল থেকেই বিরোধীদের হই-হট্টোগোলে দফায় দফায় সংসদের অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়। তবে রাজ্যের ক্ষেত্রে বিষয়টি কেমন হবে তা নিয়ে বার্তা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আইন করা হবে। সংসদে সেই আইন পাশও হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গেও এই ধরণের অপরাধ ঠেকাতে আলাদা আইন আনা হবে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ দু’নম্বরি করার সাহস না পায়।’
অন্যদিকে সোমবার দুপুরে বিরোধীদের চরম হই-হট্টগোল এবং স্লোগানের মাঝেই লোকসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ পেশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। এই বিল পেশকে কেন্দ্র করে সপ্তাহের প্রথম দিনেই উত্তাল হয়ে ওঠে সংসদের অন্দর। তার মধ্যেই নয়া বার্তা দিলেন দিলীপ ঘোষ। আবার রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের অগ্রগতি এবং কাজের গতি খতিয়ে দেখতে সোমবার হাওড়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। এই বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় পঞ্চায়েতমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারি প্রকল্পগুলির কাজের পরিবর্তন এবং সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।’
তাছাড়া প্রশ্নফাঁস এবং নিট কেলেঙ্কারিকে হাতিয়ার করে যেমন বিরোধীরা কেন্দ্রকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনই দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছে। কেন্দ্র বিল এনে আইন করলে রাজ্য আাবার পৃথক আইন কেন করবে? উঠছে প্রশ্ন। আর রাজ্যে পঞ্চায়েতের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাই দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘গত দিনে পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি থাকার কারণে গরিব কল্যাণ যোজনা-সহ নানা প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছত না। তাই বন্ধ থাকা এমজি নারেগার কাজ এবার নতুন ভিভিজি রামজি নামে শুরু হয়েছে এবং তার প্রশিক্ষণও চলছে। গত ১২ বছর ধরে পঞ্চায়েতে পর্যাপ্ত নিয়োগ না হওয়ায় প্রায় ১১ হাজারের বেশি কর্মী কম আছে। তবে খুব শীঘ্রই এই শূন্যপদ পূরণ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।’




