‘নিরাপত্তা’ শব্দটি আজকের দিনে সকলের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহিলা থেকে পুরুষ সকলের কাছে বর্তমান সময়ে এই ছোট্ট শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শহর কলকাতায় যখন কাউকে নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হয়, তা বড় প্রশ্ন তোলে বৈকি। কারণ এই শহর শান্তির শহর। নিরাপদ শহর। সকলে প্রাণ খুলে স্বাধীন ভাবে এই শহরের বুকে দাপিয়ে বেড়ায়। সম্প্রতি ফের শহর কলকাতায় উঠল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন। আর এখানে জড়িয়ে রয়েছে এক তরুণের জীবন।
ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নিতে শহরে আসা এক তরুণকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। পূর্ব কলকাতার গুলশন কলোনির একটি বাড়িতে আড্ডা দেওয়ার নাম করে ওই তরুণকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে জোর করে অনলাইনের মাধ্যমে ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। এ ছাড়াও লুট করা হয় সোনার গয়না। আতঙ্কে কলকাতায় থাকাকালীন তিনি কারও কাছে মুখ খুলতে পারেননি। নিজের বাড়ি নদিয়ার চাকদহে ফিরে যাওয়ার পর এই ঘটনায় চাকদহ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
চাকদহ থানার পুলিশ জিরো এফআইআর করে অভিযোগটি পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর থানায় পাঠিয়ে দেয়। তার ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।এর আগেও আনন্দপুর ও প্রগতি ময়দান এলাকায় এ ধরনের একাধিক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তাই পুলিশ এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি ওই তরুণ একটি ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নিতে শহরে আসেন। তিনি নিউ টাউনের একটি হোটেলে ওঠেন। এর আগেই শহরের এক যুবকের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তথা একটি অ্যাপের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। যোগাযোগের পর ওই যুবক তাঁকে আড্ডা দেওয়ার জন্য আনন্দপুর এলাকায় আসতে বলে। এমনকি একটি ক্যাবও পাঠিয়ে দেয়। সেই ক্যাব গুলশন কলোনির একটি বাড়িতে পৌঁছে দেয় তরুণকে।
অভিযোগ, সেখানে একটি নির্জন ফ্ল্যাটে মূল অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় চারজন ব্যক্তি ঘরে ঢুকে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে মারধর শুরু করে তারা। কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ।
পুলিশের দাবি, তরুণ জানিয়েছিলেন তাঁর কাছে বেশি নগদ টাকা নেই। তখন এক অভিযুক্ত নিজের মোবাইলের স্ক্যানার তাঁর সামনে ধরে। তরুণের দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে মোট পাঁচ হাজার টাকা নিজেদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে অভিযুক্তরা। খুলে নেওয়া হয় তাঁর হাতে থাকা সোনার আংটিও।
অভিযোগ, এরপরেও নগদ টাকা চাওয়া হয়। টাকা না দিলে ছাদ থেকে ফেলে খুন করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে এক আত্মীয়কে ফোন করে টাকা পাঠাতে বলেন তিনি। ওই আত্মীয় অনলাইনে ৬০ হাজার টাকা পাঠান। পরে একই পদ্ধতিতে স্ক্যানারের মাধ্যমে সেই টাকাও তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেয় দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, প্রমাণ লোপাট করতে অনলাইন লেনদেন সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যও মুছে দেওয়া হয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই যে বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছিল, সেটি শনাক্ত করেছে আনন্দপুর থানার পুলিশ। শুধু তাই নয়, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টাও চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




