আজ মহানবমী। মঙ্গলবারও উৎসবের আমেজে মাতল গোটা বাংলা। পুজোর ভোগ খাওয়া, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে দুপুরের খাওয়াদাওয়া এবং মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখা-এই চেনা ছবি ধরা পড়ল বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। এবছর দু’দিন সপ্তমী পড়ায় বাঙালি একটু বেশিই আনন্দ উপভোগ করতে পারছে। শনিবার ও রবিবার-দু’দিন ছিল মহাসপ্তমী।
বিভিন্ন বারোয়ারি পুজোর মণ্ডপ থেকে শুরু করে বনেদি বাড়ির পুজো—সর্বত্রই দেবীর উদ্দেশে নিবেদিত ভোগ গ্রহণ করেন ভক্তরা। কোথাও পাত জুড়ে ছিল লুচি, খিচুড়ি ও নানা রকমের তরকারি, কোথাও আবার ভোগের মেনুতে জায়গা করে নেয় মাছ, এমনকি মাংসও। মঙ্গলবার অর্থাৎ ২০ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ছিল নবমী তিথি।
হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে বধ করেছিলেন দেবী দুর্গা। এই সময়টিই সন্ধিক্ষণ নামে পরিচিত। দেবীর অপরাজেয় শক্তির আরাধনায় বিশেষ পুজোর আয়োজন করেন ভক্তরা। দেবীর প্রিয় খাদ্যসামগ্রী নিবেদন করার পর অনুষ্ঠিত হয় মহাআরতি। অন্য দিকে, সাবেকি রীতিতে দুর্গাপুজো হয় এমন একাধিক বনেদি বাড়িতে সকালে পুজো শেষ হওয়ার আগে যজ্ঞের আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: মহাষ্টমীতে বেলুড় মঠে কুমারী পুজো, পুণ্যার্থীদের ঢল
এ দিকে, নবমীর সকাল থেকেই শহর ও শহরতলির বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে শুরু করে। উৎসবের শেষ লগ্নে যত বেশি সম্ভব মণ্ডপ ঘুরে দেখার তাগিদ ছিল অনেকের মধ্যেই। বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে এ বছরের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।
কলকাতার বউবাজার এলাকার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোমণ্ডপে মঙ্গলবার সকালেও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঘোষিত ‘দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬’-এর ‘সেরার সেরা’ সম্মান পেয়েছে এই পুজো। দেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ বার মণ্ডপের থিমে তুলে ধরা হয়েছে ‘বন্দে মাতরম্’ ভাবনা। নিখুঁত কারুকাজ এবং বিশাল স্থাপত্যের মাধ্যমে সেই ভাবনাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
উত্তর কলকাতার হাতিবাগান এলাকার কাশী বোস লেনের পুজোতেও নবমীর সকালে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এ বারের থিম ‘আদিম’—অর্থাৎ সৃষ্টির আদিম উৎস। অন্য দিকে, দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম পরিচিত পুজো কমিটি অজেয় সংহতির মণ্ডপে তুলে ধরা হয়েছে ‘সর্বংসহা’ ভাবনা। ধৈর্য, সহনশীলতা ও শক্তির প্রতীকী উপস্থাপন রয়েছে এই থিমে।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: মহাষ্টমীর পুজোয় কাজল, মেয়ে নাইসা ও বোন তানিশার সঙ্গে পুজো দিলেন অভিনেত্রী
দুর্গাপুজো বাংলার বৃহত্তম বার্ষিক উৎসব। পুজোর দিনগুলিতে রাস্তায় দিন-রাত মানুষের ঢল নামে, যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং স্বাভাবিক জনজীবন অনেকটাই স্তব্ধ হয়ে পড়ে। সংবাদপত্র প্রকাশও এই সময়ে বন্ধ থাকে।
তবে এ বছর উৎসবের আনন্দের মধ্যেই বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগানের একটি পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েক জন। বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা নিরঞ্জনের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি হবে। একই সঙ্গে এদিন দেশজুড়ে পালিত হবে দশেরা।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/N6g_XzAG6tA?si=04KcdLR4ZePWlzCI” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>